রোজগার বাড়াতে এবার পুকুর লিজের দর বৃদ্ধির পরিকল্পনা
বর্তমান | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: নিজস্ব আয় বাড়াতে এবার পুকুর লিজের দর বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে হুগলি জেলা পরিষদ। সূত্রের খবর, সার্বিকভাবে বাজার দর বাড়লেও সেই অনুপাতে পুকুর লিজে টাকার অংক বাড়ানো হয়নি। জেলা পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নিজস্ব পুকুরগুলির লিজের দর বাড়ানো হবে। বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লিজের দর ঠিক করতে বিভাগীয় কর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থ স্থায়ী সমিতি সেই দর অনুমোদন করলে তা কার্যকর হবে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুকুরের সঙ্গে খানাকুলে একটি ফেরিঘাটের লিজ প্রক্রিয়াও পর্যালোচনার মধ্যে রাখা হয়েছে। জেলা পরিষদের কর্তারা চাইছেন, ২০২৬-’২৭ সালের বাজেটের আগেই পুকুর লিজের দরদাম ঠিক করে ফেলতে। তাতে বাজেটে স্থায়ী সম্পদের বিরাট উৎস তৈরি এবং নতুন প্রকল্প ঘোষণা করা যাবে। এনিয়ে জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা উন্নয়নের বহুমুখী কাজের উদ্যোগ নিয়েছি। এই পরিস্থিতিতে জেলা পরিষদের নিজস্ব স্থায়ী সম্পদের যোগ্য ব্যবহার প্রয়োজন। সেই নিরিখে পুকুর লিজের টাকা পর্যালোচনা করে তা পুনর্নবীকরণ করা হবে। তাতে জেলা পরিষদের আয় বাড়বে। রাস্তা থেকে সেতু, সব ক্ষেত্রেই নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে। সেই খরচের সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে হলে আমাদেরও বাস্তবমুখী পরিকল্পনা করতে হবে। যা মৎস্যবিভাগ ইতিমধ্যেই করতে শুরু করেছে। হুগলি জেলা পরিষদের মৎস্য স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আইনজীবী নির্মাল্য চক্রবর্তী বলেন, অন্তত পাঁচ শতাংশ আয় বৃদ্ধি আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। গোটা বিষয়টি কার্যত নিলামের মাধ্যমে হবে। ফলে, শতাংশের বিচারে আরও টাকা বাড়ে কি না, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। তবে একটি নির্দিষ্ট দর ঠিক করতে আমরা বাজারদর পর্যালোচনা করছি। দ্রুত সমস্ত কাজ শেষ হবে। পাশাপাশি খানাকুলের একটি ফেরিঘাটের লিজও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি জেলা পরিষদের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য বিশেষ পরামর্শদাতা কমিটি করা হয়েছে। তাদের বাজারদরের দিকে নজর রেখে জেলা পরিষদের পুকুর লিজের টাকা বৃদ্ধির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জেলায় দশটি পুকুর আছে জেলা পরিষদের। তারমধ্যে বলাগড়ের একটি পুকুর নিয়ে আইনি জটিলতা আছে। বাকি পুকুরগুলি জেলা পরিষদের নিজস্ব আয়ের একটি বড় উৎস। সেই উৎসকেই এবার আড়েবহরে বাড়ানোর তৎপরতা শুরু হয়েছে।