• স্কুলশিক্ষা-অঙ্গনওয়াড়ি উন্নয়নে ৫ হাজার কোটির প্রকল্প, এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুতে ৬১ চাকরি, ২ মার্চ নিয়োগপত্র তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী
    বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর আতঙ্কে প্রাণ হারিয়েছেন এবং নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এমন ৬১ জনের পরিবারের একজন করে সদস্যকে হোমগার্ডের চাকরি দিচ্ছে রাজ্য। এসআইআরের কারণে মৃত ৫৬ জনের পরিবারের নিকটআত্মীয়কে চাকরি দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা পুরুলিয়া, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, বীরভূম, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, মালদহ ও নদীয়া জেলার বাসিন্দা। নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং হয়রানির শিকার হয়েছেন এমন পরিবারের সদস্য বাকি পাঁচজন। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা রাজ্যের এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী ২ মার্চ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দোলযাত্রা উপলক্ষ্যে রাজ্যের তরফে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান মঞ্চে চাকরি প্রাপকদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং।

    এসআইআর পর্বে নির্বাচন কমিশনের খামখেয়ালিপনার জেরে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তার লাগাতার প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের পরিবারের জন্য আগেই আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান চালু করেছে নবান্ন।

    এদিন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নগরোন্নয়নসহ বিভিন্ন দপ্তরের ৬৬টি বিভিন্ন পদে নিয়োগের ছাড়পত্র দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আবার এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। প্রথমটি হল পশ্চিমবঙ্গে স্কুলশিক্ষার সম্প্রসারণ নামক প্রকল্প। ২,৩৫০ কোটি টাকার প্রকল্পটি সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে রাজ্য সরকার পরিচালিত ৪৩০টি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করা হবে। প্রতিটি ব্লকে একটি করে এবং ৮৭টি অনগ্রসর ব্লকে দুটি করে স্কুলের পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ ঘটানো হবে। ওই স্কুলগুলিতে চালু হবে স্মার্ট ক্লাস। গড়ে উঠবে নতুন বিল্ডিং, ল্যাবরেটরি, ডিজিটাল পরিকাঠামো, লাইব্রেরি এবং ক্রীড়াক্ষেত্রের বিশেষ পরিকাঠামো। বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোও তৈরি করা হবে। সর্বোপরি এই স্কুলগুলিতে পঠনপাঠন চলবে ইংরেজি এবং বাংলা দুটি ভাষাতেই। নতুন শতাব্দীর চাহিদা অনুযায়ী বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, চালু হবে ব্রিজ কোর্সও।

    এডিবির সহায়তায় ২,১৪৮ কোটি টাকায় ৫০ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। এবিষয়ে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। এটি নামেই কেন্দ্রীয় প্রকল্প। কেন্দ্রের উদাসীনতার কারণে রাজ্যকেই এই প্রকল্প হাতে নিতে হয়েছে।

    এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের নার্সিং সেক্টরকে শক্তিশালী করতেও এডিবির সহায়তায় একটি পৃথক প্রকল্প গ্রহণের ছাড়পত্র দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে রাজ্যে আরো একটি ৮০০ মেগাওয়াট গ্রিনফিল্ড আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীদের চিকিৎসা খাতের ব্যয় নিয়ে নতুন নিয়ম তৈরির প্রস্তাব পাশ হয়েছে এদিন। সম্প্রতি ১৯টি চা-বাগান পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
  • Link to this news (বর্তমান)