• অভাবী বিক্রি রুখতে উদ্যোগ, ন্যূনতম সাড়ে ৯ টাকা দরে ১২ লক্ষ টন আলু কিনবে রাজ্য
    বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আলুর অভাবী বিক্রি ঠেকাতে ন্যূনতম সাড়ে ৯ টাকা দরে প্রায় ১২ লক্ষ টন আলু কিনবে রাজ্য। এবছর আলুর বাড়তি ফলনের জোর সম্ভাবনা। এই পরিস্থিতিতে যাতে রাজ্যের আলু উৎপাদনকারী কৃষকদের যাতে কোনোভাবে লোকশান না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
    মার্চ মাসের শুরু থেকে গুণগতমান পরীক্ষা করে হিমঘরগুলির গেটে আলু কেনা হবে। প্রতি কৃষকের থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ কুইন্টাল বা ৩৫০ কেজি বা ৭০ বস্তা আলু কেনা হবে। অতিফলনের জেরে কিছু রাজ্যে অভাবী বিক্রি ইতিমধ্যে দেখা গিয়েছে। সেই আশঙ্কা থেকেই এরাজ্যে আগেভাগে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

    বৈঠকের পর নবান্নে এবিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন কৃষিবিশেষজ্ঞ তথা রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। তিনি জানান, ২০১১ থেকে আলু চাষিদের পাশে দাঁড়াতে পাঁচবার সহায়ক মূল্যে আলু কিনেছে রাজ্য। এর আগে ন্যূনতম দর ছিল ৯ টাকা। এবার ষষ্ঠবার ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে আলু কেনা হবে।

    সূত্রের খবর, এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে রাজ্যে ১১ আলু উৎপাদনকারী জেলার প্রশাসনের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন করেন কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না, দুই দপ্তরের সচিব ওঙ্কার সিং মিনাসহ পদস্থ আধিকারিকরা। সেখানেও অভাবী বিক্রি ঠেকানোর লক্ষ্যে এখন থেকেই জেলা প্রশাসনকে তৈরি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া গতবছরের মতো এবছরও রাজ্যের ছোটো ও প্রান্তিক চাষিরা তাঁদের উৎপাদিত আলু হিমঘরগুলির ৩০ শতাংশে মজুত রাখতে দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এবছরও একজন কৃষক সর্বাধিক ৩৫ কুইন্টাল বা ৭০ বস্তা আলু রাখতে পারবেন হিমঘরে। জেলাশাসকদের উপর সম্পূর্ণ বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব থাকবে। গতবছর ১৪৬ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছিল রাজ্যে। তা সত্ত্বেও আলুর দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় একাধিক কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছিল রাজ্যের তরফে। এবার আর অকারণে আলুর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দিতে চাইছে না রাজ্য।
  • Link to this news (বর্তমান)