ভোটের মুখে রেশনে জাতীয় প্রকল্প নিয়ে সমীক্ষায় কেন্দ্র! উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন, ক্ষুব্ধ ডিলার সংগঠন
বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে বিধানসভার ভোটের ঠিক আগেই রেশন ব্যবস্থার উপর বিশেষ সমীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। জাতীয় প্রকল্প অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার গ্রাহকদের উপর এই সমীক্ষা কলকাতাসহ রাজ্যের অনেকগুলি জেলায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বার্তা পেয়ে খাদ্যদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনগুলিকে জানিয়ে দিয়েছে। খাদ্যমন্ত্রক এই সমীক্ষার দায়িত্ব দিয়েছে অ্যাকাডেমি অব ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ নামে দিল্লির একটি সংস্থাকে। খাদ্যদপ্তর সূত্রের খবর, ফিল্ড সার্ভের জন্য স্থানীয় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও যুক্ত করা হয়েছে। সমীক্ষা চলবে মোট তিনদফায়। এই দফায় কলকাতার সঙ্গে সমীক্ষা হবে দার্জিলিং, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর, নদীয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পূর্ব বর্ধমান জেলায়।
রেশন গ্রাহক ছাড়াও এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সব শ্রেণির লোকজনের সঙ্গে কথা বলবেন সমীক্ষকরা। রেশন ডিলার, খাদ্যগুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী এবং রেশন দোকানের উপর নজরদারির জন্য গঠিত ভিজিলেন্স কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বিশেষভাবে কথা বলা হবে। উল্লেখ করা হয়েছে কেন্দ্রের চিঠিতে। এই সমীক্ষার কাজ যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য রাজ্য খাদ্যদপ্তর থেকে জেলা প্রশাসন ও জেলার খাদ্য আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সমীক্ষা রিপোর্ট অবশ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা পড়বে।
খাদ্যদপ্তর সূত্রে বলা হচ্ছে, এই ধরনের সমীক্ষা কখনোসখনো হয়ে থাকে। তবে ভোটের মুখে এটাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। জাতীয় প্রকল্প হিসেবে রাজ্যও সাহায্য করছে।
সমীক্ষা নিয়ে ক্ষুব্ধ রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠন। অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানান, ডিলারদের উপর কাজের চাপ এমনিতেই বেড়ে গিয়েছে। তারই মধ্যে এই সমীক্ষার ঝক্কি! ডিলারদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে গ্রাহকের কাছেও যাচ্ছেন সমীক্ষকরা। এতে দুপক্ষের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। রেশন গ্রাহক এবং ডিলারের স্বার্থে কেন্দ্র কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। কিন্তু নজরদারির নামে চলছে হেনস্তা।
প্রসঙ্গত, জাতীয় প্রকল্পে রাজ্যে রেশন গ্রাহক প্রায় ৬ কোটি। তাদের খাদ্যশস্য দেয় কেন্দ্র। কিন্তু ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটারদের কমিশন, পরিবহণ খরচসহ আরো কিছু ব্যয়ের অর্ধেক বহন করতে হয় রাজ্যকেই। অথচ প্রধানমন্ত্রীর নামাঙ্কিত এই প্রকল্পের পুরো কৃতিত্ব নেয় কেন্দ্র।