বছরে ১৫ হাজারের বেশি অভিযোগ, ৮ শাখায় সাজছে সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ
বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: খুন, গুন্ডামি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই সহ নানাবিধ দুষ্কর্ম রুখতে শহরের নিরাপত্তায় তৈরি হয়েছিল লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। তথাকথিত ক্রাইম এখন অনেকটাই উর্দিধারীদের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু, দিন দিন মাথাচাড়া দিচ্ছে সাইবার ক্রাইম বা অনলাইন অপরাধ। সেগুলি প্রতিরোধে এতদিন লালবাজারে অভ্যন্তরে কাজ করত সাইবার ক্রাইম থানা। আর গোয়েন্দা বিভাগের তত্ত্বাবধানে চলত ব্যাংক জালিয়াতি দমন শাখা ও প্রতারণা দমন শাখা। অনলাইন অপরারধের বাড়বাড়ন্ত রুখতে বাহিনীর সংখ্যা ও পরিকাঠামোগতভাবে ‘দুর্বল’ হয়ে পড়ছিল কলকাতা পুলিশের সাইবার শাখা। তাই এবার খোলনলচে বদলে সাইবার শাখার ‘পদোন্নতি’ করছে লালবাজার। রাজ্য প্রশাসনের অনুমোদনের ভিত্তিতে লালবাজারে চালু হচ্ছে সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ (সিসিবি)। অর্থাৎ, একাধিক শাখার সংগঠনে চলবে এই ব্রাঞ্চ। মোট ৮টি শাখার যৌথ প্রচেষ্টায় কলকাতাকে অনলাইন প্রতারণা থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করবে সিসিবি।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৪ ও ২০২৫ সাল মিলিয়ে মোট ৩০ হাজার ৫৪০টি সাইবার অপরাধের অভিযোগ জমা পড়েছে লালবাজারে। বার্ষিক হিসাব করলে ১৫ হাজারের বেশি অভিযোগ পায় কলকাতা পুলিশ। কোনো ক্ষেত্রে ডিজিটাল অ্যারেস্ট, কোনো ক্ষেত্রে হোটেল বুকিংয়ের নামে প্রতারণা, আবার কারও অভিযোগ— সোশ্যাল মিডিয়া হ্যাক করে নিয়েছে অনলাইন দুষ্কৃতীরা। এতদিন পর্যন্ত সাইবার থানা বা ডিভিশনের সাইবার সেল এই সমস্ত অভিযোগ গ্রহণ করত। সব তদন্তই চালাতে হতো সাইবার থানার আধিকারিকদের। গোয়েন্দা বিভাগ জানাচ্ছে, অনলাইন অপরাধ বিভিন্ন ধরনের হয়। সব অভিযোগের তদন্তপ্রক্রিয়াও ভিন্ন। একইসঙ্গে, মাথায় রাখতে হয় ‘গোল্ডেন আওয়ার’এর গেরোও।
সবদিক মাথায় রেখেই তদন্তপ্রক্রিয়া সুষ্ঠ ও দ্রুত করতে সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চকে কাজে লাগাতে চায় কলকাতা পুলিশ। অভিযোগ গ্রহণ করবে সাইবার থানা। এরপরেই অভিযোগের ধরন দেখে তদন্তভার চলে যাবে নির্দিষ্ট শাখার হাতে। প্রতিটি শাখা চলবে একজন ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার অফিসার ইন-চার্জের তত্ত্বাবধানে। গোটা ব্রাঞ্চটি পরিচালনা করবেন ডেপুটি কমিশনার (সাইবার)। তিনি রিপোর্ট করবেন যুগ্ম কমিশনার (সাইবার) পদমর্যাদার অফিসারকে। এই পদটি কলকাতা পুলিশে একেবারে নতুন। শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই পদটি তৈরির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল। তাতে সম্মতি জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে এখনও এই পদে কোনো অফিসার নিয়োগ করেনি নবান্ন।
কলকাতা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, গত বছরের নভেম্বর মাসে নবান্নের কাছে সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ তৈরির জন্য প্রস্তাব দেয় লালবাজার। সেই প্রস্তাব অর্থদপ্তরের কাছে যায় অনুমোদনের জন্য। সেখান থেকেও অনুমোদন মেলে। শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ তৈরির প্রস্তাব পাশ হয়ে গিয়েছে। পরিকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত যাবতীয় উদ্যোগ বর্তমান বাহিনীর কার্যকলাপ থেকেই বহন করা হবে।