দীর্ঘদিন পর আবর্জনা সংগ্রহের গাড়ি বণ্টনের উদ্যোগ পুরসভার
বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে আবর্জনা সংগ্রহ করার গাড়ি। ধুলোর আস্তরণ পড়েছে তার উপর। সেই গাড়িগুলিকে অবশেষে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বণ্টন করার সিদ্ধান্ত নিল রাজপুর সোনারপুর পুরসভা। দিন কয়েক আগে এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। তাতে সর্বসম্মতভাবেই ঠিক হয় যে, গাড়িগুলিকে আর ফেলে না রেখে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হবে। প্রশ্ন হল, তাহলে, এতদিন ধরে এই গাড়িগুলি ব্যবহার করা হল না কেন?
জানা গিয়েছে, পুরসভার অধীনে থাকা কেডি মল্লিক গার্ডেনে প্রায় ৪০টি গাড়ি রাখা রয়েছে। দীর্ঘদিন গাড়িগুলি ব্যবহার করা হয়নি। তার ব্যাটারিগুলি একপ্রকার অকেজো হয়ে গিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পের মাধ্যমে পুরসভাকে দেওয়া হয়েছিল এই ময়লা সংগ্রহ করার গাড়ি। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সেগুলি ঘুরে ঘুরে বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করে পুরসভার ডাম্পিং রাউন্ডে ফেলবে, এমনটাই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু বছরখানেকের বেশি সময় ধরে এইসব গাড়ি এই বাগানবাড়িতেই ফেলে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। বিভিন্ন ওয়ার্ডে অবশ্য পুরসভার অন্য গাড়ি নামানো হয়। কিন্তু অটোর মতো দেখতে সরকার থেকে দেওয়া এই আবর্জনা সংগ্রহ করার গাড়িগুলিই বা কেন ব্যবহার করা হল না এতদিন, সেটাই রহস্য। তাই ভোটের আগে নড়েচড়ে বসেছে পুর কর্তৃপক্ষ। ৩৫টি ওয়ার্ডে যেখানে যেমন প্রয়োজন, এই গাড়ি বণ্টন করা হবে। একাধিক কাউন্সিলারের প্রশ্ন, গাড়িগুলিকে যেভাবে ফেলে রাখা হয়েছিল, তাতে বিপুল টাকার ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। এখন গাড়িগুলিকে ফের চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য এখন সেগুলির ব্যাটারি পরীক্ষা করা হচ্ছে। তার খরচ বহন করতে হচ্ছে পুরসভাকেই।
এই বিষয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান পল্লব দাস বলেন, গাড়িগুলিকে এবার ওয়ার্ডে আমরা ব্যবহার করব। যেহেতু এগুলির ময়লা সংগ্রহের ধারণ ক্ষমতা কম, তাই ঠিক হয়েছে এই গাড়িতে শুধুমাত্র চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে। অর্থাৎ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ব্যান্ডেজ, সিরিঞ্জ প্রভৃতি যদি থাকে সেসব নিয়ে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে যাবে এই গাড়িগুলি। যে গাড়ি ওয়ার্ডে দেওয়া আছে তাতে দু’টি বড় ড্রাম আছে। তাতে অনেকটা জঞ্জাল ধরে যায়।