• মুখ্যমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনের দু’মাস পার, চালুই হল না বারাকপুরের উৎসধারা প্রকল্প
    বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৮ ডিসেম্বর ভার্চুয়ালি বারাকপুরের উৎসধারা প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা চালু হল না। সাধারণের প্রবেশ নিষেধের বোর্ড এখনও সেখানে ঝুলছে। গেটের ভিতরে রয়েছে পুলিশি পাহারা। পূর্তদপ্তর ৩০ কোটি টাকায় মনোরম ওই পর্যটন স্থান তৈরি করেছে। এবার সেটিকে পর্যটন দপ্তরের হাতে তুলে দিতে চাইছে তারা। এজন্য পূর্তদপ্তর থেকে পর্যটন দপ্তরকে হস্তান্তরের চিঠিও করা হয়েছে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের ভার কার হাতে থাকবে এবং টিকিটের মূল্য কত হবে, তা এখনো ঠিক না হওয়ায় দু’মাস পরেও প্রকল্পটি চালু হল না।

    জানুয়ারি মাসের বিভিন্ন ছুটির দিন, সরস্বতী পুজো, ফেব্রুয়ারি মাসের ভ্যালেন্টাইনস ডে চলে গেল। বিটি রোড থেকে গান্ধীঘাট পর্যন্ত রাস্তাও মসৃণ করে দিয়েছে পূর্তদপ্তর। কিন্তু কেউ ‘উৎসধারা’য় প্রবেশ করতে পারলেন না। ফলে রাজ্য সরকারের রাজস্ব আদায়েও ক্ষতি হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্তদপ্তর এই প্রকল্পটি তৈরি করলেও এটি দেখভালের দায়িত্বে থাকবে পর্যটন দপ্তর। পর্যটন উন্নয়ন নিগম এজন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সেই প্রক্রিয়ার কাজ শেষ হলেই জটিলতা কেটে যাবে বলে আশাবাদী প্রশাসনিক কর্তারা।

    ২০১৬ সালে বারাকপুরের সুকান্ত সদনে এক প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জমি সহ নানা জটিলতা কাটিয়ে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দৃষ্টিনন্দন এই প্রকল্পে ৭০ ফুট উচ্চতার ক্লক টাওয়ার এবং একটি সূর্য ঘড়ি রয়েছে, যা সকলের কাছে আকর্ষণীয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার ক্রস করেই দেখা মিলবে ওই ক্লক টাওয়ারের। গঙ্গার ধারে মনোরম পরিবেশে মানুষ যাতে প্রাতঃভ্রমণ বা সান্ধ্যভ্রমণ করতে পারে, এমনকী সপরিবারে দিনভর কাটাতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই প্রকল্প। স্বদেশি গেট পার করে প্রকল্পের মধ্যে ঢুকে গঙ্গার পাড়ে হাঁটতে পারবেন, বসতে পারবেন, কেনাকাটা করতে পারবেন, পছন্দের খাবারও খেতে পারবেন।

    এছাড়াও রয়েছে এগজিবিশন সেন্টার, যেখানে তুলে ধরা হয়েছে বীর সেনানি মঙ্গল পান্ডে সহ বারাকপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ইতিহাস। রয়েছে ফুড কোর্ট, হস্তশিল্প সহ বিভিন্ন পণ্যের স্টল। দ্বিতীয় পর্যায়ে হবে গান্ধী গেট, শিশুদের জন্য পার্ক, পিকনিক করা বা আড্ডা দেওয়ার সুব্যবস্থা। প্রশাসনিক কর্তাদের আশা, সারাদিন কাটানো সহ শিক্ষামূলক ভ্রমণের একটি ‘ডেস্টিনেশন’ হয়ে উঠবে বারাকপুরের এই উৎসধারা প্রকল্প।
  • Link to this news (বর্তমান)