প্লাস্টিকের মেশিনগান হাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী, নির্বিঘ্নে শিশু সংসদের নির্বাচন
বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: কমিশনের নিয়ম মেনে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল পাথরপ্রতিমার উত্তরাবাদ অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। দেশের সাধারণ নির্বাচন নয়, এটি ছিল বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের ভোট। যা দেখে গ্রামের বাসিন্দারা অবাক। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই স্কুলের শিশু সংসদের নির্বাচন ঘিরে ব্লকজুড়ে সাড়া পড়ে গিয়েছে। আয়োজনের কোথাও খামতি ছিল না বলে দাবি।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভোট দেওয়ার জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলের দরজার সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়ায়। প্রত্যেকের কাছে ছিল বিদ্যালয় থেকে দেওয়া নিজস্ব পরিচয়পত্র। লাইন সামলাতে ও এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। তাদের হাতে ছিল প্লাস্টিকের মেশিনগান। এছাড়াও ছিল রাজ্য পুলিশ। ক্লাস রুমের ভিতরে বেঞ্চে বসেছিল ১২ জন প্রার্থীর একজন করে এজেন্ট। তাদের প্রত্যেকের কাছেই ছিল ভোটার তালিকা। পড়ুয়ারা ভিতরে ঢুকলেই তাদের নাম জিজ্ঞেস করে এজেন্টরা পেনে টিক চিহ্ন দিচ্ছিল। বেঞ্চে বসেছিলেন নির্বাচনী অফিসাররা। প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা পড়ুয়াদের নাম জিজ্ঞেস করার পর ভোটার তালিকায় টিক চিহ্ন দেন। তাঁর পাশে বসে থাকা অফিসার পড়ুয়ার আঙুলে লাগিয়ে দেন ভোট দেওয়ার কালি। পাশের অফিসাররা ব্যালট পেপার মুড়ে হাতে ধরিয়ে দেন। এরপর এক একজন পড়ুয়া তিন দিক ঘেরা টেবিলের ভিতরে ঢুকে ব্যালট পেপারে ভোট দেয়। পরে সেই ব্যালট মুড়ে আবার বাক্সে ঢুকিয়ে দেয়। পরে প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে গণনা হয়। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি ছাত্র-ছাত্রীরাই সম্পন্ন করে। কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ, এজেন্ট সব দায়িত্বই পড়ুয়ারা সামলেছে।
কেবলমাত্র ভোট প্রক্রিয়া ও গণনার সময় সরকারি অফিসার হিসেবে অন্য স্কুলের শিক্ষিকাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এদিন নির্বাচন প্রক্রিয়াটি ছিল গণতন্ত্রের উৎসব। জানা গিয়েছে, এই স্কুলে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৩১২ জন ভোটার ছিল। ভোট পড়েছে ২৬৩টি। প্রার্থী সংখ্যা ছিল ১২। সর্বোচ্চ ২০২টি ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী আরমিনা খাতুন। উত্তরাবাদ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজয় জানা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হলে, ভবিষ্যতে তারা দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে উঠবে। এছাড়াও ওদের মধ্যে গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা আরও বাড়বে। তাই সাধারণ নির্বাচনের মতো বিদ্যালয়েও শিশু সংসদের নির্বাচন করা হল।’