কলেজের হস্টেলে ডাক্তারি পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু, চাঞ্চল্য
বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, কল্যাণী: কল্যাণীতে ডাক্তারি পড়ুয়ার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। কল্যাণী কলেজ অব মেডিসিন অ্যান্ড জেএনএম হাসপাতালের জুনিয়র বয়েজ হস্টেলের ঘর থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফাইনাল ইয়ারের ওই পড়ুয়ার দেহ পাওয়া যায়। মৃতের নাম পুলক হালদার (২৪)। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটের ধামুয়া। সূত্রের দাবি, ২০ তারিখ হস্টেলের ক্যান্টিনে খেতে যাওয়ার পর তাঁকে আর দেখতে পাওয়া যায়নি। তখন থেকেই হয়তো তিনি আর ঘর থেকে বেরননি। এমনকি ক্যান্টিনেও যাননি। এদিন দুপুরে পুলকের রুম থেকে পচা গন্ধ বের হয়। গন্ধ পেয়ে হস্টেলের ছাত্ররা হাসপাতাল ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কল্যাণী থানার পুলিশ দরজা ভেঙে বিছানায় মৃত অবস্থায় পুলককে পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। শুক্রবার তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। হস্টেলের রুমে একা থাকতেন পুলক। সামনের মাসে ৫ তারিখ থেকে পরীক্ষা শুরু। তার আগেই পুলকের মৃত্যুতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, হস্টেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও। একজন ছাত্র কয়েকদিন অনুপস্থিত থাকলেও তাঁর কোনো খোঁজ কি নেওয়া হয়েছিল। নিয়মিত রুম চেক বা উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে এই ঘটনা কীভাবে ঘটল। যদিও এই বিষয়ে তাঁর সহপাঠী বা অন্য কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চায়নি। হস্টেল সুপারিন্টেন্ডেন্ট সৌম্যজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হলে তাঁর মোবাইল বন্ধ ছিল। এটি আত্মহত্যা, অসুস্থতা, নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু, তা তদন্ত করে দেখছে কল্যাণী থানার পুলিশ। তবে এই বিষয়ে মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল চিকিৎসক মণিদীপ পাল বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। পুলিশ তদন্ত করছে। মৃত পুলকের বাবা সুধাংশু হালদার বলেন, ‘কেন কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে জানি না। আমার ছেলে পড়াশোনায় ভালো ছিল। কুড়ি তারিখ ওর মায়ের কথা বলেছিল। সেভাবে কিছু বুঝতে পারিনি। তারপর থেকেই মোবাইল বন্ধ ছিল। এমন ঘটনা ঘটবে ভাবিনি।’