• ‘লিভ ইন’ সম্পর্কে ফাটল, আত্মঘাতী বধূর দেহ লোপাটের চেষ্টায় ধৃত নন্দাই
    বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: নন্দাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল মহিলার। ঘর ছেড়ে তার সঙ্গে বেহালায় লিভ ইন শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই সম্পর্কেও ফাটল ধরে। শেষে অশান্তির জেরে আত্মঘাতী হলেন প্রেমিকা। আইনি জটিলতা এড়াতে তাঁর দেহ ফলতা থানার ফতেপুর বাইপাসের কাছে একটি জলাশয়ের ধারে ফেলে দিয়েছিলেন প্রেমিক। এমনকি সুইসাইড নোট লিখে মৃতের পোশাকে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তাতে দায়ি করা হয়েছিল পরিবারের সদস্যদের।

    কিন্তু এত কিছু করেও লাভ হল না। পুলিশ মহিলার দেহ উদ্ধার করে তদন্তে নেমে বধূর প্রেমিকের ব্যাপারে জানতে পারে। মঙ্গলবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সবটা স্বীকার করেন তিনি। ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার সন্দীপ গড়াই জানিয়েছেন, দেহ লোপাট ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতকে ডায়মন্ডহারবার আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
    জানা গিয়েছে, নন্দাই স্বরূপ ভাণ্ডারীর সঙ্গে বেহালার ভাড়াবাড়িতে ছ’মাস ধরে লিভ ইন করছিলেন গৃহবধূ সুপ্রিয়া মণ্ডল। ফলতার দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা তিনি। স্বরূপবাবু থাকতেন দস্তিপুরে। দুজনের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর স্বামীর ঘর ছেড়েছিলেন সুপ্রিয়া। দুজনে একসঙ্গে থাকতে শুরু করার পর শুরু হয় নানা অশান্তি। অভিযোগ, ঝামেলা সহ্য করতে না পেরে গত সোমবার গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন মহিলা। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্বরূপবাবু। আত্মহত্যার জন্য পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এই আশঙ্কায় তিনি দেহ লোপাটের চেষ্টা করেন। ওইদিনই বেহালার বাড়ি থেকে ফলতার ফতেপুর বাইপাসের কাছে সুপ্রিয়াদেবীর দেহ ফেলে দেন তিনি। এমনকি এই ঘটনার জন্য বধূর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুরি দায়ি বলে উল্লেখ ছিল সুইসাইড নোটে। সন্দেহ যাতে তাঁর স্বামীর দিকে যায়, সেটাই ছিল প্রেমিকের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। মহিলার দেহ উদ্ধারের পর তাঁর গলার দাগ দেখে পুলিশের মনে হয়েছিল এটা আত্মহত্যা। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টও সেটার মান্যতা দেয়। তাতেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। সুইসাইড নোটের হাতের লেখা পরীক্ষা করতেই জানা যায় সেটা মৃতের স্বামীর নয়। এরপরই বিভিন্ন সূত্র ধরে স্বরূপবাবু ব্যাপারে জানতে পারেন তদন্তকারীরা। তাঁকে থানায় এনে চাপ দিতেই ভেঙে পড়েন। দোষ কবুল করেন।
  • Link to this news (বর্তমান)