নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: চোরের উপদ্রব বাড়ছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে মাদকাসক্তদের দাপট। রাতে শহরের নিরাপত্তা নিয়ে অনেক দিন ধরেই প্রশ্ন উঠেছে পানিহাটি জুড়ে। কিন্তু রাস্তায় লাগানো সিংহভাগ সিসি ক্যামেরা অকেজো। পুলিশকেও ভরসা করতে হয় আশপাশের দোকান, আবাসন ও বাড়ির সিসি ক্যামেরার উপর। এই পরিস্থিতিতে শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হল পানিহাটি পুরসভা। নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা খরচে গোটা শহরে সিসি ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসেই শুরু হবে কাজ। উত্তর শহরতলির অন্যতম বড়ো পুরসভা পানিহাটি। বিটি রোড, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে, বারাসত রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা গিয়েছে শহরের উপর দিয়ে। সোদপুর ও আগরপাড়া স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। তার উপর রয়েছে বিস্তীর্ণ গঙ্গা পাড়। খড়দহ ও ঘোলা থানা এলাকার মধ্যে থাকা এই শহরের বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে প্রচুর সিসি ক্যামেরা দেখা যায়। কিন্তু তার সিংহভাগ খারাপ। ২০২০ সালের ঝড়ে প্রচুর সিসি ক্যামেরা নষ্ট হয়েছিল। তাছাড়া নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বহু ক্যামেরা অকেজো। ফলে অপরাধের তদন্তে বার বার হোঁচট খেতে হয় তদন্তকারীদের। পানিহাটির গঙ্গাপাড়ের পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়েছে বলে অভিযোগ। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে নেশাড়ুদের আসর বসছে। প্রকাশ্যে চলছে গাঁজা ও মদের কারবার। নেশাড়ুদের মধ্যে মারপিটের পাশাপাশি সাধারণ লোকও আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু সিংহভাগ ক্যামেরা খারাপ থাকায় বহু সময় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। একইভাবে পথ দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। সেইসব দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পেতে পুলিশের কালঘাম ছুটছে।
এই পরিস্থিতিতে পুরসভা মোট ৩১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৩৬৬ টাকা ব্যয়ে শহরজুড়ে শতাধিক ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গঙ্গার মহোৎসবতলা ঘাট, পিভি ঘাট রোড ছাড়াও গঙ্গা লাগোয়া রাস্তা, বিটি রোডের বেঙ্গল কেমিক্যাল, মোল্লারহাট, তেঁতুলতলা, মোল্লারহাট সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি মোড়ে ক্যামেরা লাগানো হবে। এছাড়া পুরসভা চত্বরের পাশাপাশি বারাসত রোডের রেলওয়ে ফ্লাইওভার, এসবি টাউন, কেয়ারমোড় সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ক্যামেরা লাগানো হবে। পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষের নিরাপত্তা বড়ো প্রশ্ন। পথ দুর্ঘটনা হোক, চুরি বা কোনো অসামাজিক কাজ রুখতে সিসি ক্যামেরার বিকল্প নেই। তাই খড়দহ ও ঘোলা থানার সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে। শুধু তাই নয়, পাঁচ বছর ক্যামেরার রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি করা হয়েছে। ক্যামেরা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।