• পরিষেবার মানোন্নয়নে একছাদের তলায় সাফাই ব্যবস্থা, তৈরি হবে ডিপো-গ্যারাজ
    বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পুরসভার আবর্জনা সাফাই ব্যবস্থাকে একছাদের তলায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছে শ্রীরামপুর পুরসভা। শহরের প্রভাসনগরে গাড়ির ডিপো সহ গ্যারাজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানেই থাকবে পুরসভার সমস্ত সাফাই কাজের গাড়ি। কর্মীরাও থাকবেন সেখানে। একই জায়গা থেকে গাড়ি বের হবে এবং কাজ শেষে ফিরে আসবে। গ্যারাজেই গাড়ি সারাই থেকে ঝাড়পোছ সবই করা হবে। একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সমস্ত কাজ হওয়ায় সুষ্ঠু পরিকল্পনা করা যাবে। ইতিমধ্যেই এই কাজের জন্য প্রথম দফায় প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। দ্রুত পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ সেরে ফেলতে চাইছেন পুরকর্তারা।

    এনিয়ে পুরসভার সিআইসি সদস্য সন্তোষ সিং (পাপ্পু) বলেন, দু’টি কারণে ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথমত, সাফাই বিভাগ অর্থাৎ সাফাইয়ের যাবতীয় গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও কর্মীদের এক জায়গায় নিয়ে আসা দরকার ছিল। তাতে কাজের সুবিধা হবে। দ্বিতীয়ত, আবর্জনা সাফাইয়ের গাড়ি সারাই ও পরিষ্কার করার কাজ নিয়মিত করা যাবে। না হলে দৃশ্যদূষণ থেকে গাড়ি খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। নোংরা গাড়ি নাগরিকদের মধ্যে বিরক্তি ও অস্বস্তি তৈরি করে। কিন্তু সব জায়গায় আবর্জনার গাড়ি পরিষ্কার করা যায় না। তাই পৃথক একটি ডিপো ও গ্যারাজের প্রয়োজন ছিল। টাকা বরাদ্দ হওয়ায় এবার দ্রুত কাজ শেষ করার পালা।

    পুর চেয়ারম্যান গিরিধারী সাহা বলেন, সুষ্ঠু নাগরিক পরিষেবার মূলে আছে সুষ্ঠু পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনা কার্যকর করতেই গোটা সাফাই ব্যবস্থাকে একটি জায়গায় নিয়ে আসা হচ্ছে। নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে সেখানে বাড়তি কিছু পরিকাঠামো রাখা হচ্ছে। শ্রীরামপুরের বাসিন্দা তথা সমাজকর্মী সমীর সাহা বলেন, শহরের বুকে আবর্জনা সাফাইয়ের গাড়িগুলি নোংরা অবস্থায় চলাচল করলে বাস্তবিকই সমস্যা হয়। আবার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সেইসব গাড়ি যেখানে সেখানে সাফ করা যায় না। সেই নিরিখে পুরসভার পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। সাফাই যেমন প্রয়োজন তেমনই সাফাইয়ের পদ্ধতিও সাফসুতরো হলে দেখতেও ভালো লাগে। সেই বিষয়টি পুরকর্তারা বুঝেছেন, এটাই বড় কথা।

    পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য তো আছেই, সেইসঙ্গে পুরসভার কাজের সুষ্ঠু পরিচালনাও একটি বড়ো সমস্যা ছিল। আবর্জনা সাফাইয়ের গাড়িগুলি খারাপ হয়ে গেলে তা অন্যত্র সারাই করতে সমস্যা হতো। তাতে নাগরিক পরিষেবায় বাধা পড়ত। এখন একই ছাদের তলায় গ্যারাজ থাকায় প্রতিদিন নজরদারি করা যাবে। তাতে নাগরিক পরিষেবার মানও বাড়বে।
  • Link to this news (বর্তমান)