• চন্দননগরের উন্নয়নে ৬৩ কোটির কাজ বিপুল কর্মযজ্ঞের দাবি পুরকর্তাদের
    বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: একসঙ্গে প্রায় ৬৩ কোটি টাকার কাজ শুরু হয়েছে চন্দননগর পুরসভা এলাকায়। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ছোটো রাস্তা থেকে নতুন নিকাশিনালা, আলো থেকে জল, শহরকে উন্নয়নের চাদরে মুড়ে দিতে শামিল হয়েছে পুরসভা ও রাজ্য সরকার। সেইসঙ্গে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দিতে পাইপলাইন পাতার জন্য শহরের রাস্তাঘাট খুঁড়ে ফেলা হয়েছিল। পুর এলাকায় সেই সংস্কারের কাজও শুরু হয়েছে। পুরকর্তাদের দাবি, আমরা সারা বছর ধরেই উন্নয়নের কাজ করে থাকি। কিন্তু এখন বছরের শুরুতেই রাজ্য সরকার ও পুরসভার একের পর এক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে একসঙ্গে এত কাজ হয়নি চন্দননগরে।

    পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোটো থেকে বড়ো— সব কাজই টেন্ডারের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। কিছু কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। কিছু কাজ আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু হবে। ফলে, নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেলেও উন্নয়নের কাজে কোনও ছেদ পড়বে না। বিপুল কর্মযজ্ঞ নিয়ে উচ্ছ্বসিত চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী। তিনি বলেন, নাগরিকদের সমস্ত চাহিদাই আমরা এই পর্বে মিটিয়ে দিতে পারব। যে মাত্রায় কাজ শুরু হয়েছে তা সাম্প্রতিকালে চন্দননগরে হয়নি। একইসঙ্গে পথশ্রী, চন্দননগর পুরসভার নিজস্ব উন্নয়নের কাজ, আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্পের গুচ্ছ গুচ্ছ কাজ শুরু হয়েছে। পুর এলাকায় কাজের বন্যা বইছে বলে দাবি করেছেন পুরসভার মেয়র পরিষদের সদস্য (স্বাস্থ্য) শুভজিৎ সাউ। তিনি বলেন, বহুদিন ধরেই কাউন্সিলার হিসাবে সাধারণ মানুষের চাহিদা পূরণের কাজ করছি। চলতি বছরে যেভাবে নতুন রাস্তাঘাট তৈরি থেকে সংস্কার, নিকাশিনালা, আলোর কাজ হচ্ছে, একসঙ্গে এতকাজ বহুদিন ধরে হয়নি। কার্যত ভোল বদলে যাচ্ছে শহরের।

    যদিও উন্নয়নমূলক কাজের এই বিপুল বহর নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। পদ্মপার্টির আইনজীবী নেতা স্বপন পাল বলেন, সামনেই ভোট। তাই কর্মযজ্ঞের নামে নাগরিকদের ভুল বোঝাতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। চন্দননগর পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, জলের লা‌ইনপাইপ বসানোর জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়। চলতি বছরের গোড়ায় এই সমস্ত রাস্তা সারাইয়ের পরিকল্পনায় সিলমোহর পড়েছিল। এই কাজের জন্য ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। তারপরে পুরসভার নিজস্ব পরিকল্পনার আওতায় ১ কোটি ২৭ লক্ষ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। সম্প্রতি পুরসভাকে ১১৩টি রাস্তার জন্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা দিয়েছে রাজ্য সরকার। আবার, ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পে ১৬৯টি বুথ এলাকার জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। সব কাজ একইসঙ্গে শুরু হওয়ায় চন্দননগরে উন্নয়নের ঢালাও সুযোগ তৈরি হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)