নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিলখানায় প্রোমোটার শফিক খানকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হারুন ও রাফাকাত হোসেন ওরফে রোহিতের কাছে পুলিশের গতিবিধির খবর পৌঁছচ্ছে কীভাবে, তা নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। কারণ অতি গোপনে ডোমজুড়ে রোহিতের বান্ধবীর বাড়িতে পুলিশ হানা দিলেও ঠিক তার আগে সেখান থেকে কীভাবে পালিয়ে গেল সে? এখান থেকেই তদন্তকারীদের ধারণা, কেউ বা কারা পুলিশের গতিবিধির খবর পাচার করছে তাদের। এর পিছনে পুলিশের কেউ নেই তো? এই প্রশ্নও উঁকি দিয়েছে। আবার হারুনকে নিয়ন্ত্রণ করত যে, সেই ‘ভাগ্না’ নামের যুবকের দিকেও নজর রয়েছে তদন্তকারীদের। কারণ সেও পুলিশের নড়াচড়ার উপর নজরদারি চালাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছেন হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা। তাঁদের অনুমান, রাজনৈতিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে হারুন কলকাতা বা তার আশপাশে লুকিয়ে রয়েছে।
শফিক খুনের তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জেনেছেন, হারুন, রোহিত, আকাশ সহ উত্তর হওড়ার একাধিক অপরাধীর ‘মেন্টর’ ছিল ভাগ্না নামের ওই যুবক। এলাকার উঠতি দুষ্কৃতী কারা, ভাগ্নাকে সেই খবর পৌঁছে দিত হারুনরা। হারুনের কল লিস্ট ঘেঁটে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, প্রায়ই তার সঙ্গে কথা হত ভাগ্নার। এমনকি, মাঝেমধ্যে মুখোমুখি বৈঠকও হত। এলাকায় হারুন বা আকাশের গোষ্ঠী গোলমাল পাকালে তা পিছন থেকে সামাল দিত ভাগ্না। প্রোমোটিং নিয়ে কোন গোষ্ঠী কোথায় তোলাবাজি করছে, সব খবরই আসত তার কাছে। জানা গিয়েছে, ভাগ্নার নির্দেশেই বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রোমোটারকে হুমকি ফোন করত হারুন। রোহিত, আকাশ বা হারুনের মতো দাগী দুষ্কৃতীদের কোনো শাগরেদ গোলাবাড়ি, মালিপাঁচঘড়া কিংবা হাওড়া সিটি পুলিশের কোনো থানায় ধরা পড়লে তাদের ছাড়ানোর জন্য আসরে নামত এই যুবক। পুলিশের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার ব্যাপারে ওস্তাদ এই ভাগ্না। পুলিশ কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, হুমকি বা মারধর করেও পার পেয়ে গিয়েছে হারুন বা আকাশের টিম। পাকড়াও করে থানায় নিয়ে আসার পরেও অনেক সময় ছেড়ে দিতে হয়েছে তাদের।
গোয়েন্দারা জেনেছেন, হারুনের সঙ্গে গোলাবাড়ি থানার দু’-একজন কর্মীর ঘনিষ্ঠতা ও ওঠাবসা রয়েছে। অভিযোগ, সে শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত বলে ওই পুলিশ কর্মীরা তাকে সমীহ করে চলত। তাহলে কি শফিককে খুনের ষড়যন্ত্রের কথা সন্দেহভাজন পুলিশ কর্মীরা ও হারুনের মেন্টর আগে থেকে জানত? এই প্রশ্নও এখন উঠতে শুরু করেছে। গোয়েন্দাদের কাছে খবর, আত্মগোপনে থেকেও হারুন ও রোহিত তাদের ঘনিষ্ঠ ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তাদের কল লিস্ট ঘেঁটে তদন্তকারীরা জেনেছেন, খুনের পর তারা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে। তাহলে তারাই কি পুলিশের গতিবিধি সম্পর্কে খোঁজখবর দিচ্ছে হারুন, রোহিতকে?
খুনের পর অভিযুক্ত দু’জন প্রথমে গা ঢাকা দিয়েছিল জোড়াসাঁকোয়। সেখানে পুলিশ যাচ্ছে, সেই খবরও তারা আগেভাগে পেয়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি ডেরা বদলায়। গোয়েন্দারা এর মধ্যেই জানতে পারেন, ডোমজুড় এলাকায় রোহিতের এক বান্ধবী রয়েছে। ফোনে তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে প্রেমিকের। অত্যন্ত গোপনে গোয়েন্দারা সেখানে গেলেও তার ঠিক আগে পালিয়ে যায় সে। গোয়েন্দাদের বক্তব্য, কেউ খবর ফাঁস না করলে তার পক্ষে পালানো সম্ভব ছিল না। এখান থেকেই তাঁরা আঁচ করছেন, দু’জনের কাছেই পুলিশের গতিবিধির খবর পৌঁছে যাচ্ছে। সেই সূত্রকেই খুঁজে বের করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।