গঙ্গাপাড়ে সবুজের হাত ধরে বুড়ুল অঞ্চলে স্থায়ী পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনা
বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিমল বন্দোপাধ্যায়, বজবজ: ভাগীরথী নদীর ধার ঘেঁষে রায়পুর, গদাধরপুর, বুড়ুল, বাহিরকুঞ্জ অঞ্চল জুড়ে স্থায়ী পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনা চলছে। কলকাতা এবং দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা যাতে এখানে এসে গঙ্গাকে ঘিরে থাকা সবুজ আর পাখপাখালির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সেইভাবেই পরিকল্পনা করা হয়েছে। আলিপুর মহকুমা প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে সেচ, পিডব্লুডি, পরিবহণ ও পর্যটন দপ্তরের মিলিত একটি দল কোথায় কোথায় কী কী করা যেতে পারে, তা খতিয়ে দেখেছে। এরপর পুরো পরিকল্পনাটি সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত দিয়ে সেচদপ্তরে জমা পড়েছে।
বুড়ুল, গজাপোয়ালি এবং ডোঙারিয়া রায়পুর– এই তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভিতর ছ’কিলোমিটার এলাকা নিয়ে ওই পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে। তবে এর বেশির ভাগ অংশ বুড়ুলের ভিতর। সব সময়েই গঙ্গা দেখা যায়। মাঝে মাঝে ডলফিনও দেখতে পাওয়া যায়। গঙ্গার এই শোভা দেখার জন্য বহু বছর আগে হাতে গোনা কয়েকটি রিসর্ট তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় কলকাতার বড় বড় ব্যবসায়ীরাও রিসর্ট তৈরি করেন। শুধু রিসর্ট নয়, এখানে জায়গা কিনে একাধিক পিকনিক স্পটও তৈরি হয়েছে।
শীতের মরশুমে এলাকাটি সব সময় জমজমাট থাকে। বজবজ দুই ব্লকের সাতগাছিয়ার তৃণমূলের সভাপতি স্বপন হাতি বলেন, শীতের মরশুমের কয়েক মাস দক্ষিণ কলকাতা উঠে আসে এই বুড়ুলে। এছাড়াও সারা বছর বাইরের রাজ্য থেকেও পর্যটকদের আনাগোনা চলে। এটি এখন রীতিমত টেক্কা দিচ্ছে ডায়মন্ডহারবার পর্যটন কেন্দ্রকে। একেবারে নিরিবিলি, শান্ত এলাকা। পর্যটন ক্ষেত্রকে ঘিরে বিকল্প স্থায়ী রোজগারের একটা দিক খুলে গিয়েছে। অনেকেই দোকান দিয়েছেন। ছোট ছোট মাছের বাজার থেকে সব্জি বাজার তৈরি হয়েছে।
ইলিশ মাছ ধরে মাঝিরা এখানে বিক্রিও করেন। এছাড়াও পিকনিকে ব্যবহৃত মাইক, রান্নার সরঞ্জাম, জলের ড্রাম, ত্রিপল সহ আরও নানা জিনিস অনেক রিসর্ট থেকে সরবরাহ করা শুরু হয়। এই পুরো বিষয়টি সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আনা হয়। এরপর এতদঞ্চলের পর্যটন পরিকাঠামো তৈরি করার ব্যাপারে তিনি উদ্যোগ নেন। তাঁর তৎপরতায় কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। আপাতত জানা গিয়েছে, নদীর এই জায়গায় পাড় কংক্রিটের হবে। লাইট লাগানো থেকে গোটা এলাকা জুড়ে আরও সবুজায়ন হবে। শিশু উদ্যানের পাশাপাশি কোথাও কোথাও বসার জায়গাও তৈরি হবে। এর পাশাপাশি হোম স্টে করার কথাও ভাবা হয়েছে।