নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ব্যান্ডেলের দেবানন্দপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ আগুনের জেরে আতঙ্ক ছড়াল। আবগারি দপ্তরের বাজেয়াপ্ত হওয়া গাড়িতে আগুন লাগে, বিকট শব্দে ফাটতে থাকে ব্যাটারি। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। বিভিন্ন জটিলতার কারণে দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে খানিকটা সময় লাগে। স্বাভাবিকভাবেই উৎকণ্ঠা বেড়ে চলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। অবশেষে দমকলের দুটি ইঞ্জিনের তৎপরতায় ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ব্যান্ডেলের দেবানন্দপুর বাজারের ঢিল ছোড়া দূরত্বে ব্যান্ডেল স্টেশন। বাজারের মধ্যেই রয়েছে একটি সরু রাস্তা। যা দিয়ে রাজহাটের দিকে যাওয়া যায়। বাজারের ঠিক মুখেই আবগারি দপ্তরের অফিস রয়েছে। তার ঠিক পাশে একটি ফাঁকা জায়গা, যেখানে বাজেয়াপ্ত করা প্রচুর গাড়ি রাখা থাকে। প্রায় একশোর বেশি পুরানো এবং নতুন গাড়ি সেখানে রাখা ছিল। কোনোভাবে এই গাড়িগুলির একটিতে আচমকা আগুন লেগে যায়। ঘটনাস্থলে প্রচুর গাছ রয়েছে। রাস্তায় প্রচুর শুকনো পাতা পড়ে থাকে। প্রাথমিকভাবে অনুমান, কোনোভাবে সেই শুকনো পাতায় আগুন লাগে। সেখান থেকেই গাড়িগুলিতে আগুন ধরে যায়। গাড়িগুলির ব্যাটারি বিস্ফোরণ হতে শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ২০টি গাড়ির ব্যাটারি ফেটে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আশপাশে রয়েছে একাধিক গুমটি, ছোটো দোকান। পাশেই রয়েছে একটি ব্যাংক। সেখানেও আতঙ্ক ছড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বিকেলের দিকে ধোঁয়া দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তারপর গল গল করে ধোঁয়া বেরতে থাকে। আগুনের লেলিহান শিখা সঙ্গে একের পর এক বিস্ফোরণ। স্বাভাবিকভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। সব থেকে বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় রেলের আন্ডারপাস। কারণ ওই এলাকায় যেতে গেলে রেলের আন্ডারপাস দিয়ে যেতে হবে। কিন্তু সেখান দিয়ে দমকলের গাড়ি যাওয়া সম্ভব নয়। ফলে খেজুরিয়া আদি সপ্তগ্রাম হয়ে দমকলের গাড়ি ঘুরিয়ে আনতে গিয়ে অনেকটা সময় লেগে যায়। তাতে আগুন আরও বিধ্বংসী চেহারা নয়। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ২০টি গাড়ির ব্যাটারি বিস্ফোরণ হয়েছে। প্রায় ৫০টি গাড়ি পুড়ে গিয়েছে। ঘটনার জেরে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠার প্রহর গুনতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কারণ, কোনোভাবেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছিল না।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান দেবানন্দপুরের উপপ্রধান। ঘটনাস্থলে যান চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারও। একটা সময় তিনিও দমকল না আসার কারণে যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ঘটনাচক্রে এদিন বলাগড়েও একটি জায়গায় আগুন লেগেছিল। যার জন্য চুঁচুড়া থেকে দমকলের গাড়ি সেখানে গিয়েছিল। ব্যান্ডেল স্টেশন যথেষ্ট জনবহুল। যেখানে ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে এমনিতেই প্রচুর মানুষের যাতায়াত। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় একাধিক গুমটি রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রায় ঘণ্টাখানেকের লড়াইয়ের পর আগুন আয়ত্তে আনা সম্ভব হয়। দমকলের দুটি গাড়ি নিয়ে তৎপরতার সঙ্গে আগুন নেভান দমকল কর্মীরা। এই অঞ্চলে আশপাশে কোনো জলাশয় নেই। স্বাভাবিকভাবেই আগুন নেভানোর জন্য প্রাথমিকভাবে জলেরও জোগান ছিল না। বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, দমকল আসতে দেরি করেছে। একটি গাড়ি বলাগড়ে চলে গিয়েছিল। অন্য গাড়ি প্রথমে ঢুকতে পারেনি। কারণ, রেলের সাবওয়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে একটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে, কেন আগুন লাগল, কীভাবে লাগল, কার গাফিলতি আছে, সেইসব আমরা পরে খতিয়ে দেখব।