• ছাত্র সংঘর্ষের পর এবার র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ যাদবপুরে
    বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাত্র সংঘর্ষের পর এবার র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের স্নাতকস্তরের এক পড়ুয়া তাঁর কিছু সহপাঠী এবং সিনিয়রের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার, ভীতিপ্রদর্শন সহ বেশ কিছু অভিযোগ জানিয়েছেন। ডিন অব স্টুডেন্টস অনুপম দেব সরকারের কাছে কিছুদিন আগে অভিযোগ জানালেও বৃহস্পতিবার সেটি সামনে এসেছে।

    ওই ছাত্রের অভিযোগ, ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু ডিন অব আর্টসের ঘরের পাশের একটি ঘরে তাস খেলছিলেন। তখন দলবল নিয়ে চড়াও হয় অভিযুক্তরা। তাঁদের ঘিরে হাততালি দিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। তাঁদের মেরে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এছাড়াও প্রাক্তন এক ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, যিনি ওই ছাত্রকে এসএফআইয়ের মিছিলে পর্যাপ্ত পড়ুয়া আনতে না পারলে বিভাগীয় প্রধানকে বলে তাঁর কেরিয়ার শেষ করার হুমকিও দিয়েছিলেন। ডিন অব স্টুডেন্টসের তরফে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করা হয়েছে। এও জানানো হয়েছে, অভিযোগটি অ্যান্টি র‌্যাগিং কমিটির কাছে গিয়েছে। প্রসঙ্গত, আর্টস ফ্যাকাল্টিরই বাংলা বিষয়ের ছাত্র কয়েক বছর আগে র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। যদিও, এবারের অভিযোগকে এসএফআইয়ের তরফে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলেই দাবি করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, সংঘর্ষে অভিযুক্ত তিন ছাত্রকে সাসপেন্ড করার বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের একাংশ চাপ সৃষ্টি শুরু করেছে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের উপর। বুধবার তাঁর গাড়ি আটকানো থেকে শুরু করে দপ্তরের বাইরে অবস্থান, সবই চলেছে। বৃহস্পতিবার উপাচার্য না এলেও রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তদের উপর থেকে অবিলম্বে সাসপেনশন প্রত্যাহার না করলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। যদিও, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ অনড়। আন্দোলনকারীরা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও তাঁদের যুক্তি, সংঘর্ষে যুক্ত দু’পক্ষের মধ্যে এক পক্ষের পড়ুয়াদেরই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অপরপক্ষ, অর্থাৎ এসএফআইয়ের কাউকে সাসপেনশনের আওতায় আনা হয়নি। তাই এই একপেশে সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মদতপুষ্ট। সিপিএমপন্থী শিক্ষক ও পড়ুয়াগোষ্ঠীর চাপের মুখে নতিস্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। রেজিস্ট্রার বলেন, ‘যে ছাত্ররা অধ্যাপকদের উপর হাত তুলেছিলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাত্রছাত্রীরা প্রাক্তন সেনাকর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে রাখা নিয়েও আপত্তি তুলেছেন। এটা করা যায় না।’
  • Link to this news (বর্তমান)