সোহম কর, কলকাতা: ক্যানিং স্ট্রিটের রাস্তাঘাট এখনই গোলাপি আবিরে রাঙিয়ে উঠেছে। এছাড়া চারপাশে ভয়ঙ্কর দেখতে মুখোশ। তার পাশে ঝুলছে ত্রিশূল, গদা, তীর আর নানা রকমের রং খেলার জিনিসপত্র। সেগুলি দেখে মনে হবে দোলের মুখে বড়বাজারে অস্ত্রের দোকান খুলেছে। তা মোটেও নয়। ওগুলো আসলে পিচকারি। ত্রিশূল ধরে টান মারলেই বেরিয়ে আসবে রং। সামনের মানুষটিকে রাঙিয়ে তোলা যাবে। এবার যদি সামনের মানুষটিও পাল্টা রং ছোড়ে? নিজেকে বাঁচাতে তখন লাগবে ‘ছাতা পিচকারি’। সেটি দিয়ে রং ছোড়া যায়। আবার ছাতা খুলে নিজেকে রঙের হাত থেকে রক্ষাও করা যায়। ছেলেভুলানো এসব খেলনার কিন্তু দাম খুব একটা কম নয়।
বড়বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘পাইকারি বাজারে বিক্রি ভালোই হচ্ছে। কিন্তু খুচরো বাজারের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়।’ কেন? ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ‘গতবছর দোলের সময় বৃষ্টি হওয়ার বিক্রি খুব একটা হয়নি। তাই আগের স্টক রয়ে গিয়েছে।’ এসব ব্যবসা সংক্রান্ত জটিলতা তো থাকবেই। তবে এখন বড়বাজারে রংবেরঙের জিনিসপত্র নিয়ে সাধারণ মানুষের উত্সাহের শেষ নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখোশ যেমন রয়েছে তেমনই রয়েছে বাঘ, সিংহ আর ভুতুরে মুখোশ। এছাড়া রংবেরঙের চুল আছে। এসব অবশ্য গতবছরও ছিল। এবার নতুন জিনিস হল, ত্রিশূল-গদা-তীর ইত্যাদি অস্ত্রশস্ত্র মার্কা পিচকারি। এগুলি প্লাস্টিকের তৈরি। পাইকারি বাজারে দাম ১২০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ১৫০ পর্যন্ত। কিন্তু আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘ছাতা পিচকারি’। তা নিয়েই আগ্রহ। সেটি দেখতে অবিকল যেন ছোট ছাতা। আর পাঁচটা সাধারণ ছাতার মতো খোলে। আর তরল রং ভরে ছাতার লাঠি জোরে টানলে রং ভরে যায়। তারপর লাঠি ঠেললেই হুড়হুড় করে বেরয় লাল-নীল বা সবুজ রং। ছাতা থাকে খোলা ফলে সামনের মানুষ অতর্কিতে আক্রমণ করলে রঙের হাত থেকে মালিককে রক্ষা করে ছাতা। এর পাইকারি দাম ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা।
পিচকারির বহর এখানেই শেষ নয়। বাজারে আছে তিনমুখী পিচকারি। এক আঙুলে সুইচ টিপলে তিনখানি নল থেকে তেড়েফুড়ে রং বেরবে। এছাড়াও ছোট-বড়ো-মাঝারি নানা ধরনের পিচকারি তো রয়েইছে। গতবছর থেকে বাজারে এসেছে ট্যাঙ্ক পিচকারি। এ বছর সে পিচকারিতে নয়া বাহার। সেটির পিঠে থাকে একখানা ব্যাগ। যেখানে ভরা থাকে রং। ব্যাগ তৈরি হয়েছে ছোটা ভীম আর অন্যান্য কার্টুন চরিত্রের আদলে। সঙ্গে রয়েছে রঙিন টুপি। এই সব টুপির পাইকারি মূল্য ২০-৩০ টাকা থেকে শুরু। রয়েছে দোলের দিনের জন্য ‘হ্যাপি হোলি’ লেখা টি শার্ট। বড়বাজারের এক ব্যবসায়ী বললেন, ‘এখন আর কিছুই চীন থেকে আসছে না। দিল্লি-মুম্বইতেই তৈরি হয় পিচকারিগুলো। চাহিদা বেশ ভালোই।’ সবমিলিয়ে দোলের আগে জমজমাট বড়বাজার।