• ‘বাংলাদেশে শান্তি ফিরছে, ইদের পর ব্যবসাও ফিরবে’, আশাবাদী নিউ মার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিট
    বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুকুন্দপুর থেকে মার্কুইস স্ট্রিট—এখানে বাংলাদেশের বাসিন্দাদের যাতায়াত লেগেই থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ অশান্ত হওয়ার পর থেকেই ব্যবসায় ভাটা কলকাতার এই অংশে। এখন সেদেশে নতুন সরকার। শান্তও হয়েছে বাংলাদেশ। এবার এপার বাংলার ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ইদের পর বাংলাদেশি পর্যটকরা আসা শুরু করবেন। একদলের অবশ্য বক্তব্য, বাংলায় ভোট না মেটা পর্যন্ত মনে হয় পরিস্থিতি ঠিকঠাক হবে না।

    বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হয়েছে। কিন্তু কলকাতার ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, তার প্রভাব এখন শহরে দেখা যাচ্ছে না। নিউমার্কেট সংলগ্ন মার্কুইস স্ট্রিটের একটি নামী পরিবহণ সংস্থার কর্মীর দাবি, আমাদের বাসে বৃহস্পতিবার মাত্র ১৯ জন বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় এসেছেন। কলকাতা থেকে ১৩ জন গিয়েছেন। বর্ডারে এখনও নানা ধরনের চেকিং চলছে। এখন শুধু মেডিকেল ভিসাতেই লোকজন আসছে। ইদের আগে ও পরে কেনাকাটার জন্য বেশি আসা শুরু হতে পারে। কিন্তু এখানেও তো ভোট। তার আগে সব স্বাভাবিক হবে কি না কে জানে! মুকুন্দপুরের বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি বললেন, এখন তো ওদেশে সরকার বদলেছে। দেখে যা মনে হচ্ছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালোই। বাংলাদেশিরা যত আসবেন, আমাদের লাভ তত বেশি হবে। এখন যা পরিস্থিতি দেখছি আমরা আশাবাদী।

    গত কয়েক মাস ধরে মূলত মেডিকেল ভিসাতেই বাংলাদেশিরা ভারতে আসছে। এখানকার ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, এখন ভিসার সময় বলে দিতে হয় কোন হাসপাতালে দেখানো হবে। কাজেই ইএম বাইপাসের পাশে থাকা হাসপাতালের আশপাশের গেস্ট হাউজে বাংলাদেশিদের আনাগোনা। সেখানকার মালিকদের বক্তব্য, শুধু মেডিকেল ভিসা নিয়ে আসছেন বলে বেশি ভিড় হচ্ছে না। যদিও আগের থেকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। এখন মাসে ৫-৬ জন করে আসছেন। ওই চত্বরের এক গেস্ট হাউজ মালিক নারায়ণ দেবনাথ বললেন, ‘চারপাশে যা শুনছি, তার জন্য বাংলাদেশের লোকজনকে ঘর দিচ্ছি না। তারপর কোথা থেকে কী বের হয়ে যাবে জানি না। তাই একটু ভয় লাগছে। এখানে অনেক বাড়ি থাকার জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। সেখানে থাকছেন ওঁরা।’ আর এক ব্যবসায়ী প্রকাশ সামন্ত বলেন, ‘এমনিতেই লোকজন অনেক কম আসছে। দেখি ভবিষ্যতে কী হয়! বাংলাদেশে সবকিছু মিটে গেলে আমাদের লাভ।’ মার্কুইস স্ট্রিটের এক পর্যটন ব্যবসায়ী শিবশঙ্কর দে বললেন, ‘ইদের আগে তো অনেকেই কেনাকাটা করতে আসেন। দেখা যাক! সব ঠিকঠাক চললে ইদের পর থেকে হয়ত ব্যবসা ভালোর দিকে যাবে। আমরা এটাই আশা করছি।’
  • Link to this news (বর্তমান)