• ৭ কোটি ৮ লক্ষ নাম রেখেই ২৮শে প্রকাশ প্রথম তালিকা, শুনানিতে ডাক পেলেও থাকছে নাম যোগ-বিয়োগ অতিরিক্ত তালিকায়
    বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মতো আগামী কাল, শনিবার প্রকাশিত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকার প্রথম পর্ব। এরপর ধাপে ধাপে প্রকাশ হবে অতিরিক্ত তালিকা। কমিশন জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির ভোটার লিস্টে খসড়া তালিকায় থাকা সকলের নামই প্রকাশ করা হবে। তবে কারা যোগ্য ভোটার, কাদের নাম এখনও যাচাই করা যায়নি এবং কারা অযোগ্য হিসাবে চিহ্নিত—তা পৃথকভাবে চিহ্নিত করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ এই তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট ভোটার তাঁর ‘স্টেটাস’ জেনে নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে কমিশন।

    সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশে জানিয়েছিল, ২৮ তারিখের মধ্যে এসআইআরের কাজ যতদূর এগবে, তার ভিত্তিতেই তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সেই অনুযায়ী যাচাই এবং নিষ্পত্তির কাজ কতটা এগল, তা তালিকার মাধ্যমে ভোটারদের জানিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। শুনানিতে ডাক পাওয়া যে সব ভোটারের তথ্য আগামী ২৮ তারিখ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হবে, তাঁদের যোগ্য ভোটার হিসাবে ধরা হবে। তাঁদের নামের শুধু উল্লেখই থাকবে তালিকায়। আলাদা করে পাশে কিছু নাও লেখা থাকতে পারে। তবে যে সমস্ত ভোটারের তথ্য যাচাই এবং নিষ্পত্তির জন্য বিচারকদের কাছে পাঠানো হয়েছে, তাঁদের নামের পাশে ‘অ্যাডজুডিকেশন’(বিচারাধীন) শব্দটি লেখা থাকবে। রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, এমন ভোটারের সংখ্যা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ২৭৫। পরবর্তী সময়ে এই ‘অ্যাডজুডিকেশন’ লিস্ট থেকে যাঁরা যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তাঁদের পৃথক তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। এবং সেই ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ‘যোগ্য’ বলে যুক্ত করা হবে। এসআইআর ঘোষণার সময় পশ্চিমবঙ্গে ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ জন ভোটার ছিলেন। সেই তালিকা থেকে মৃত, অনুপস্থিত, নিখোঁজ মিলিয়ে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ যায়। খসড়া তালিকায় ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ। এই ভোটারদের সকলের নাম ২৮ তারিখের তালিকায় ‘ক্যাটিগরি’ অনুযায়ী ভাগ করা থাকবে। মনোজকুমার আগরওয়াল আরও বলেছেন, ‘ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে যে সব ভোটারের নাম আপাতত যুক্ত হয়েছে, তাঁদের নামও ২৮ তারিখের তালিকায় যোগ হবে। পাশাপাশি ৭ নম্বর ফর্ম নিষ্পত্তির পর যেসব নাম বাদ পড়েছে, সেগুলি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।’ বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই তালিকাকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বললে ভুল হবে। কারণ এই তালিকা অনুযায়ী ভোটগ্রহণ হবে না। এটি মূলত ভোটারের ‘স্টেটাস’ সংক্রান্ত একটি তালিকা, যা বেকায়দায় পড়ে প্রকাশ করতে হচ্ছে কমিশনকে।

    এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো নথি যাচাইয়ের কাজ করছেন ২৭৩ জন বিচারক। সেই কাজ কেমন চলছে, তা খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবারও রাজ্য এবং কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। আদালত জানিয়েছিল, প্রয়োজনে ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকেও বিচারকদের নিয়োগ করা যাবে। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ওই দুই রাজ্য থেকে ১০০ জন করে বিচারক চেয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও বৈঠকে প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে সমস্ত নথি জমা পড়েছে, অথচ এখনও আপলোড করা যায়নি, তা শুক্রবারের মধ্যে আপলোড করে দিতে হবে। বিধানসভা ভিত্তিক বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কাজের রিপোর্ট প্রতিদিন হাইকোর্টে পাঠাতে হবে কমিশনকে।
  • Link to this news (বর্তমান)