স্যান্ডহেড থেকে রাতে কলকাতা বন্দরে এল পণ্যবাহী জাহাজ
বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা বন্দরের ১৫৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম রাত্রিকালীন ‘পাইলট’ ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্দরে ঢুকল একটি জাহাজ। স্যান্ডহেডে গভীর সমুদ্র থেকে কলকাতা বন্দর পর্যন্ত জাহাজ নিয়ে আসা এবং বন্দর থেকে জাহাজ বের করে স্যান্ডহেড পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কাজটা অভিজ্ঞ পাইলটদের তত্ত্বাবধানে করতে হয়। কারণ হুগলি নদীতে জাহাজ চলাচলের নির্দিষ্ট চ্যানেলটি খুব সংকীর্ণ এবং সেখানে জলের গভীরতা খুব কম। বিশেষ করে ডায়মন্ডহারবার থেকে কলকাতা বন্দর পর্যন্ত ৪০ নটিক্যাল মাইলের ‘আপার রিচের চ্যানেল’ দিয়ে জাহাজ নিয়ে আসা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। এবার সেটাই করা হল রাতে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব পাইলট জাহাজকে বন্দরে নিয়ে আসেন ও বের করে গভীর সমুদ্রে পৌঁছে দেন। আগে কলকাতা বন্দরে রাতে জাহাজ নিয়ে আসা ও বের করার ব্যবস্থা ছিল না। কয়েক বছর আগে বেলজিয়ামের একটি বন্দরের সহযোগিতায় এই ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রচুর টাকা খরচ করে জাহাজ চলাচলের চ্যানেলে আলো এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক ব্যবস্থা করা হয়। গত বছর মে মাসে পরীক্ষামূলকভাবে একটি জাহাজ কলকাতা বন্দর থেকে রাতে বের হয়ে সমুদ্রের দিকে গিয়েছিল। এবার কলকাতা বন্দরের খিদিরপুর ডক থেকে ‘সিনাল পানগালা সুসু’ নামের ১২৮ মিটার দীর্ঘ একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ রাতে পাইলটের তত্ত্বাবধানে বন্দরে এল। রাতে নিজেদের পাইলটকে দিয়ে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা চালু হওয়ায় এবার আরও জাহাজ এই বন্দরে আসতে পারবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে। এর ফলে জাহাজে করে পণ্য পরিবহণের সময় কমবে। এতদিন জাহাজে পণ্য বোঝাই হয়ে গেলেও যাতায়াতের জন্য অপেক্ষা করতে হত জাহাজগুলিকে। এই অপেক্ষার কারণে খরচ বেড়ে যেত জাহাজ কোম্পানিগুলির। এই সাফল্যের জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রথেন্দ্র রমণ বন্দরের কর্মী, আধিকারিক ও পাইলটদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। এখন থেকে রাতে নিয়মিত পাইলট ব্যবস্থার মাধ্যমে কলকাতা বন্দরে জাহাজ ঢুকবে ও বের হবে বলে আশা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে কলকাতা বন্দরে জাহাজ নিয়ে আসার ব্যাপারে আগ্রহ বাড়বে শিল্প ও ব্যবসায়ী মহলের।