• মোদি জমানায় বাংলাকে দিল্লির বঞ্চনা, মনীষীদের অপমান তুলে ধরল তৃণমূল
    বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটমুখী বাংলায় প্রতিদিন চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। শাসক-বিরোধী তরজায় সরগরম বাংলার রাজনৈতিক মহল। একদিকে যেমন তৃণমূলের তরফে ভোট প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে রাজ্যের শাসক দল। অন্যদিকে তেমনই বাংলায় ভোট প্রচারে আসা-যাওয়া শুরু করে দিয়েছেন বিজেপির তাবড় নেতারা। তৃণমূলের ভাষায়, বিজেপির ওই নেতারা ডেইলি প্যাসেঞ্জার। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি বঙ্গবাসীকে খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই চিঠিতে ২০২৬ সালে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’র শপথ নিয়েছেন তিনি। এই চিঠিরই এবার পালটা একটি চিঠি তুলে ধরে প্রচারে নেমেছে রাজ্যের শাসক দল। তাতে তৃণমূল দেখিয়েছে, নরেন্দ্র মোদি যেসব প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছিলেন, তার একটিরও বাস্তবায়ন হয়নি। সেই তথ্যগুলি তিনি বাংলার মানুষকে জানাননি। ‘বাংলার মানুষের কাছে মোদির অকপট স্বীকারোক্তি’ নাম দিয়ে প্রচারে নেমেছে তৃণমূল। রাজ্যের শাসক দলের বক্তব্য, বাংলায় দুর্গাপুজো নিষিদ্ধ করা হয়েছে, দাবি করেছিলেন বিজেপি নেতারা। পরে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এখন আর কোনো পথ না-থাকায় ‘জয় মাকালী’ স্লোগান তুলে ভক্তি প্রদর্শনে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    তৃণমূলের তরফে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করা হচ্ছে, বাংলার সঙ্গে বঞ্চনা করছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। বাংলার প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না। তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের ওই চিঠিতে তৃণমূল লিখেছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজ্যের প্রাপ্য প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় তহবিলে আটকে রাখা হয়েছে। তার মাধ্যমে বাংলার মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ নামিয়ে এনেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।

    এর আগে বিজেপি নেতারা কীভাবে বাংলার মনীষীদের অসম্মান করেছে, সেটাও তুলে ধরেছে তৃণমূল। সেখানে বলা হয়েছে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ সম্বোধন, স্বামী বিবেকানন্দকে ‘বামপন্থী প্রোডাক্ট’ বলা, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গায়ের রং নিয়ে উপহাস করা, মা সারদাদেবীকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র, মাদুর্গার বংশপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা তুলেছিলেন বিজেপি নেতারা।

    একইসঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিজেপির কথা মতো নির্বাচন কমিশন কাজ করছে বলে আগেই আঙুল তুলেছে তৃণমূল। এখনো পর্যন্ত এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন ১৬০ জন মানুষের মৃত্যুর জন্য কেন্দ্রকে দায়ী করেছে তৃণমূল। রাজ্যের শাসক দল দাবি করেছে, যে বিজেপি ভোট প্রচারে ‘বিকশিত বাংলার’ আওয়াজ তুলেছে, তারা যেভাবে সাধারণ মানুষের জীবনে ‘দুর্দিন’ নামিয়ে এনেছে, কেন্দ্রের সরকার থেকে তাদেরকেই ‘পালটানো দরকার’।
  • Link to this news (বর্তমান)