আদিবাসী মহিলা নিগ্রহ: প্রতিবাদে উত্তরকন্যা অভিযান, তুমুল অশান্তি
বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: অন্তঃসত্ত্বা আদিবাসী মহিলার ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে ‘উত্তরকন্যা অভিযান’ ঘিরে ধুন্ধুমার শিলিগুড়িতে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশকে লক্ষ্য করে জলের বোতল, লাগাতার ঢিল ছুড়লেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশকে জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটাতে হয়। হয় লাঠিচার্জও। রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় শিলিগুড়ির তিনবাত্তি মোড়। ‘জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চ’-এর ব্যানারে এদিন এই অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। বিজেপি নেতাদের ‘ইন্ধনে’ই এমন পরিস্থিতি বলে দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের।
এদিকে, এই ঘটনায় পুলিশ ১৬ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। ১০ জন পুলিশকর্মী মারাত্মক জখম হন। যদিও আন্দোলনস্থলে উপস্থিত বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ, দুর্গা মুর্মু, শিখা চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, আন্দোলকারীদের মুখ বন্ধ করতে এদিন পুলিশ কার্যত টার্গেট করে আমাদের কর্মীদের লাঠিপেটা করেছে।
বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, দার্জিলিংয়ের এমপি রাজু বিস্তার বিরুদ্ধে এদিনের ঘটনার জন্য এফআইআর করার দাবি জানাচ্ছি। বিজেপির উসকানিতেই এই হাঙ্গামা হয়েছে। কারণ ডিসেম্বরের ওই ঘটনা নিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অশান্ত করতে পরিকল্পনামাফিক এদিন হামলা চালানো হল। এমপির পাল্টা হুমকি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ হামলা করেছে। মহিলাদের নির্বিচারে লাঠিপেটা করেছে। প্রয়োজনে এই আন্দোলন গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে দেব।
যদিও গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চলতে দিয়েছিলাম। আচমকা ভিড় থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। ব্যারিকেড ভেঙে ফেলা হয়। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদের কড়া পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ফাঁসিদেওয়া ব্লকের মুন্ডাবস্তির এক অন্তঃসত্ত্বার ওপর জনৈক জমি মাফিয়া হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় দোষীদের চরম শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ির জলপাই মোড় থেকে ‘জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চ’-এর ব্যানারে কামরাঙাগুড়ির মিনি সচিবালয় ‘উত্তরকন্যা চলো’ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। বিজেপির শিলিগুড়ি, ফাঁসিদেওয়া, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়করা মিছিলে যোগ দেন। ছিলেন পদ্ম পার্টির নেতা-কর্মীরা। মিছিলে তির-ধনুক হাতে আদিবাসী জনজাতির একাধিক মানুষকে দেখা যায়। তিনবাত্তি মোড়ে আগেই থেকে মোতায়েন পুলিশ বাহিনী মিছিলের পথ আটকায়। সেই সময় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন বিজেপি কর্মীরা। তখন কয়েকটি টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে শুরু করা হয় বিক্ষোভ। পুলিশ বারবার আন্দোলনকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও মিছিল থেকে পুলিশের দিকে লাগাতার প্রথমে জলের বোতল পরে ঢিল ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এরপরেই জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। তাতে আরও বেশি করে পুলিশের দিকে ঢিল আসতে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক হচ্ছে বুঝে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো শুরু করে পুলিশ।