সন্ধ্যায় মালদহ কলেজ চত্বরে মদের আসর, চিঠি অধ্যক্ষের
বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা মালদহ: সম্প্রতি সামনে এসেছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাজনিত একাধিক ফাঁকফোকর। এবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের দাপিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ জানিয়ে সরাসরি পুলিশ সুপারকে চিঠি দিলেন মালদহ কলেজ কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, কলেজ ক্যাম্পাসকে সুরক্ষিত রাখতে এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ সুপারের কাছে নৈশকালীন টহলের আর্জিও জানিয়েছেন মালদহ কলেজের অধ্যক্ষ মানস বৈদ্য। অধ্যক্ষের আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মালদহের পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। অধ্যক্ষ বলেন, আমরা কলেজে শিক্ষার পরিবেশ এবং আবাসিক ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাই। তাই জেলা পুলিশ সুপারের সাহায্য চেয়েছি।
প্রায় ৮১ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত মালদহ কলেজ গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে বৃহত্তম। প্রায় ১৫ একর জায়গা রয়েছে মালদহ কলেজের। তার মধ্যে ৫০ শতাংশ স্থান এখনও উন্মুক্ত। ক্যাম্পাসের মধ্যেই সুবিশাল খেলার মাঠ, বড় পুকুর সহ অনেক কিছুই। এই কলেজে স্নাতক স্তরের পাশাপাশি রয়েছে কয়েকটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর স্তরের পাঠক্রমও। একাধিক পেশাদার কোর্সের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয় এই কলেজে। সব মিলিয়ে রাজ্যের প্রথম সারির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে অন্যতম মালদহ কলেজ।
সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, সন্ধ্যা হতে না হতেই কলেজের মূল ফটক দিয়ে ছাত্রছাত্রীর পরিচয় ভাঁড়িয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ছে কয়েকজন। কলেজে ঢুকে তাদের অনেকেই বসাচ্ছে মদ্যপানের আসর। কখনও কলেজের মাঠে আবার পুকুরের ধারে বসছে মাদকাসক্ত বহিরাগতদের আসর। কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতরে রয়েছে ছাত্র এবং ছাত্রীদের পৃথক হস্টেল। সম্প্রতি ছাত্রদের হস্টেল থেকেও এমনই একাধিক বহিরাগতকে চিহ্নিত করে বের করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এমনকি কলেজের একটি সূত্র জানিয়েছে, কলেজ ক্যাম্পাসে অবৈধভাবে ঢুকে মদ্যপানের আসর বসানো বহিরাগতদের কয়েকটি গোষ্ঠী রয়েছে। যে কোনোদিন মদ্যপানের পর নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মালদহ কলেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার বিদ্বজ্জনদের অনেকেই।
কলেজের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা বেসরকারি এজেন্সির নিরাপত্তা কর্মীদের নিষেধ কার্যত উড়িয়েই চলছে ক্যাম্পাসে এই অবাধ অনুপ্রবেশ।
পুলিশ সুপার বলেন, কলেজের অধ্যক্ষের চিঠি গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করছি। নিরাপত্তার সবদিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে পুলিশ।