খানাকুলে ১০ কোটির কজওয়ে, বর্ষায় আগেই কাজ শেষের টার্গেট
বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: খানাকুলে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে পূর্ত দপ্তর তৈরি করছে ভেন্টেড কজওয়ে। আরামবাগ গড়ের ঘাট রাজ্য সড়কের উপর জগৎপুর পঞ্চায়েতের জগদীশতলায় ওই কজওয়ে হচ্ছে। বর্ষার আগেই কাজ শেষের টার্গেট রয়েছে। ফলে প্লাবন থেকে মুক্তির আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পূর্ত দপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্ষার আগেই কাজ শেষ হবে। ৭২ টি হিউম পাইপ দেওয়া হচ্ছে কজওয়ের নীচে। বর্ষার জমা জল ওই হিউম পাইপ দিয়েই চলে যাবে। ফলে রাস্তায় আর জল জমবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা বরুণ জানা, রমেশ দলুইরা বলেন, জগদীশতলায় বর্ষার সময় জল দাঁড়িয়ে পড়ে। ফলে বাসিন্দাদের রাস্তার ওপারে বাইক, সাইকেল রেখে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতে হয়। এর জন্য অতিরিক্ত খরচ লাগত। সঙ্গী ছিল দুর্ভোগ। এখন ওই অংশের রাস্তা উঁচু করে তৈরি হচ্ছে। ফলে সমস্যা মিটবে। অতিরিক্ত খরচাও বাঁচবে। আশা করছি বর্ষার আগেই সমস্যা মিটে যাবে।
আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি পলাশ রায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যজুড়েই উন্নয়ন করছেন। গড়েরঘাট সংলগ্ন রাস্তার ওই অংশে কাজের ফলে হুগলি ও মেদিনীপুর দুই জেলার মানুষই উপকৃত হবেন।
পূর্ত দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিন্টেড কজওয়ে তৈরিতে বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। কজওয়েটি ৪৫০ মিটার লম্বা। চওড়ায় সাত মিটার। কজওয়ের নীচে ৭২টি হিউম পাইপ বসানো হচ্ছে। তার উপরে ঢালাই রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে। যা মিশবে রাজ্য সড়কের বাকি পিচ রাস্তার অংশে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ থেকে মায়াপুর হয়ে গড়েরঘাট রাস্তা খানাকুলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রাস্তার মাধ্যমে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। ফলে নিত্যদিন হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তায় যাতায়াত করেন। গড়েরঘাট সংলগ্ন জগদীশতলায় রাস্তার অংশ নিচু ছিল। ফলে পার্শবর্তী খালের জল বৃষ্টি হলে উপচে রাস্তার ওই অংশ দিয়ে বইতে থাকে। ফলে প্রায় ৫০০ মিটার রাস্তায় যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা। জল বাড়লেই বন্ধ হয় যান চলাচল। ফলে রাস্তার ওই অংশে নামে নৌকা। এছাড়া ট্রাক্টরে চেপেও যাতায়াত করতে হয় পথচারীদের। তাই ওই অংশে যান চলাচলের সুবিধার জন্য রাস্তা উঁচু করার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। অবশেষে পূর্ত দপ্তর সেখানে ভেন্টেড কজওয়ে তৈরির বরাত দিয়েছে। এবার বর্ষায় দুর্ভোগ মিটবে বলে আশা বাসিন্দাদের।