ফের একই স্থানে ফাটল পিএইচই’র পাইপে, নির্জলা বাঁকুড়া শহর, দুর্ভোগ
বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দু’দিনের মাথায় ফের বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের বড় ব্রিজের পাশে ফেটে গেল জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পানীয় জলের পাইপ। ফলে বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দারা দিনভর অপেক্ষা করেও আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল পাননি। বাঁকুড়ায় বর্তমানে গরম পড়তে শুরু করেছে। ফলে পানীয় জলের চাহিদাও শীতের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে দু’দিন অন্তর পাইপ ফেটে যাওয়ার কারণে জল সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ। সামনেই বিধানসভা ভোট রয়েছে। ভোটের আগে এভাবে শহর ও সংলগ্ন এলাকায় জল সরবরাহ বন্ধ থাকলে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। কিছুদিন আগেই বাঁকুড়া শহরের সতীঘাট বাইপাস এলাকায় পরপর দু’দিন দু’ জায়গায় পাইপ ফেটে বিপত্তি হয়। তখনও শহরবাসী জল পায়নি। তারপর দু’দিনের ব্যবধানে ফের গন্ধেশ্বরী নদীর সেতুর পাশে পাইপে ফাটল দেখা দিল। তারফলে শহর নির্জলা থাকল।
প্রসঙ্গত, বাঁকুড়া শহরে ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিক সহ অন্যান্য ক্ষতিকর মৌল মিশে রয়েছে। ওই জল পানের অযোগ্য। সমস্যা সমাধানে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের বড়জোড়া প্রকল্পের জল শহরে সরবরাহ করা হয়। পিএইচই কর্তৃপক্ষ দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল তুলে বড়জোড়ায় শোধন করে। পরে তা পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাঁকুড়ায় পাঠানো হয়। বাঁকুড়া শহরের জন্য দৈনিক ১কোটি ২০লক্ষ লিটার জল পাঠানো হয়। ওই জল পিএইচই পুরসভাকে দেয়। পুরসভার কেশিয়াকোল পাম্প হাউস থেকে তা বাঁকুড়া শহরে সরবরাহ করা হয়।
বাঁকুড়ার জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, আগের দিনের মতোই জলের চাপে এদিন পাইপ ফেটে গিয়ে বিপত্তি হয়। দিনভর পাইপ মেরামতের কাজ চলেছে। রাতের মধ্যেই তা সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করছি। আমরা বিষয়টি বাঁকুড়া সদর মহকুমা প্রশাসন ও পুরসভাকে জানিয়েছি।
বাঁকুড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান হীরালাল চট্টরাজ বলেন, আর্সেনিকমুক্ত পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ এদিন সকাল থেকে শহরে বন্ধ ছিল। তবে আমরা বিকল্প হিসাবে পুরসভার নিজস্ব জল সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছিলাম। পরিস্রুত জল না পেয়ে বাসিন্দাদের সমস্যা হয়েছে। আজ, শুক্রবার পরিষেবা স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে পিএইচই আমাদের আশ্বাস দিয়েছে।
বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা মুকুল ভট্টাচার্য, মিতা সেন বলেন, পুরসভার জলে আয়রনের মাত্রা বেশি থাকায় তা পান করা যায় না। আমরা জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল পানের পাশাপাশি রান্নার কাজেও ব্যবহার করি। এদিন সকাল থেকে জলের জন্য হাপিত্যেশ করে বসেছিলাম। প্রশাসন বা অন্য কোনও দপ্তরের তরফে মাইকিং করা হয়নি। পূর্ব নির্ধরিত কোনও মেরামতের কাজ থাকলে তা আগাম উপভোক্তাদের জানানো উচিত।