• অ্যাকাউন্ট নম্বর চেয়ে বঙ্গ নেতাদের ক্ষোভ মেটাতে তৎপর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব
    বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ভালো ‘মাহুত’-এর স্বার্থ না দেখে ব্যয়বহুল ‘সাদা হাতি’ পুষে লাভ নেই! খুব দেরিতে হলেও বুঝতে পারল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সৌজন্যে ‘বর্তমান’-এ প্রকাশিত খবর। তাই আর সময় নষ্ট করে নীচুতলার বুথ, মণ্ডল নেতাদের সুযোগ সুবিধা দিতে উঠে পড়ে লাগল তারা। দু’দিনের মধ্যে চেয়ে পাঠানো হয়েছে সবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর। জেলা নেতারাও রয়েছেন সেই তালিকায়। মনে করা হচ্ছে, বাংলার ভোটে খরচপাতি বাবদ টাকা সরাসরি নেতাদের অ্যাকাউন্টে পাঠাতে এমন তৎপরতা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের।

    বাংলায় ভোট বৈতরণী পার হতে বঙ্গ-ব্রিগেডের উপর খুব একটা ভরসা রাখতে পারছেন না বিজেপির দিল্লির নেতারা। পর্যায়ক্রমে নিয়ে আসা হচ্ছে হিন্দি বলয়ের হেভিওয়েট নেতা, মন্ত্রীদের। তাঁদের জন্য দেদার আয়োজন। ভুরিভোজ থেকে নামী হোটেলে থাকা। ঘুরতে ফিরতে দামি গাড়ি। ঠিক যেন ‘সাদা হাতি’ পোষার মতো। স্বাভাবিকভাবে খরচেও কোনও লাগাম নেই। হিসেব নেওয়ার বালাই নেই। অথচ, বুথস্তরের নেতা-কর্মীদের বেলায় যত কিপটেমি। সামান্য টাকা দিয়েই পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব দেওয়ার ফতোয়া। এমনই অভিযোগ সামনে এনে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন বঙ্গ গেরুয়া বাহিনীর একটা বড় একাংশ। এমনকী, পূর্ব মেদিনীপুরের এক সাংসদও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে সরব হয়েছিলেন। আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘বাংলায় অনেক যোগ্য নেতা রয়েছেন।’ সম্প্রতি ‘বর্তমান’-এ ‘সাদা হাতি’র পিছনে দেদার খরচ ও নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ নিয়ে খবর প্রকাশের পর টনক নড়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। সেই কারণেই অ্যাকাউন্ট নম্বর চেয়ে পাঠিয়ে ক্ষোভ প্রশমণের চেষ্টা করছে বলে বঙ্গ নেতৃত্বের একাংশর দাবি।ওই অংশের মতে, ভিনরাজ্য থেকে যতই দক্ষ নেতা আসুক না কেন, বুথস্তরের নেতা এবং কর্মীরা কাজ না করলে এবারও মোদি, অমিত শাহ’দের বাংলা দখলের স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে। বহিরাগতরা শুধুই বৈঠক করছেন। প্রতিদিন দু’-তিনটে বৈঠক করা হচ্ছে। বুথস্তরে সংগঠনের কাজ না হলে এইসব বৈঠকের লাভ নেই। বিজেপি সূত্রে খবর, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভিন রাজ্যের তিন থেকে পাঁচজন নেতা ডেরা বেঁধেছেন। বিজেপি’র এক নেতা বলছিলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর নীচুতলার অনেক নেতা-কর্মী সমস্যায় পড়েছিলেন। দিল্লির নেতাদের কেউই তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হলেও অনেকেই তা পাননি। সেই কারণে তাঁদের একটা বড় অংশ ভোট ময়দানে নামেনি। তারউপর বহিরাগত নেতাদের পিছনে দেদার টাকা ওড়ানোর বিষয়টি জানতে পেরে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। আপাতত প্রতিটি বুথে দেওয়াল লিখনের জন্য টাকা দেওয়া হয়েছে। এরপর রথযাত্রা ও অন্যান্য কর্মসূচি সফল করতে টাকা দেওয়া হবে। ওই টাকা বাংলার নেতারা যাতে সরাসরি পান, তার জন্য অ্যাকাউন্ট নম্বরের প্রয়োজন পড়েছে। এমনটা আগে হয়নি।

    বিজেপি প্রবীণ নেতা নরেশ কোনার বৃহস্পতিবার বলেন, ‘বাস্তব দিক বিচার করে কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভোট তো আর পার্টি অফিসে বসে থেকে হয় না। বুথের নেতা এবং কর্মীরাই আসল শক্তি। তাঁদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা এলে স্বচ্ছতা থাকবে। তাঁরা নিজেদের পরিকল্পনা মতো টাকা খরচ করতে পারবেন। আগে জেলা থেকে হাতে হাতে কিছু টাকা দেওয়া হতো। কত টাকা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পাঠাচ্ছে, তা বুথস্তরের নেতারা জানতেও পারতেন না। এবার থেকে সেটা হবে না।’ দলের আর এক নেতার কথায়, শুধু ভিন রাজ্যের নেতাদের জন্য টাকা খরচ করে লাভ হবে না। সেটা দিল্লির নেতারা দেরিতে হলেও বুঝেছেন। এটাই ভালো।
  • Link to this news (বর্তমান)