• এসআইআরের কাজে ব্যস্ত বিচারকরা, ঝুলে রয়েছে বহু মামলা, আদালতে শুনানির প্রক্রিয়া স্থগিত, ভোগান্তি
    বর্তমান | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: এসআইআরের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন বিচারকরা। দিনভর তাঁদের আনম্যাপড এবং লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটারদের নথি যাচাই করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আদালতের দৈনিক কাজে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে আদালতে। বহু মামলা ঝুলে রয়েছে। ট্রায়াল প্রক্রিয়াও আপাতত বন্ধ রয়েছে। আইনজীবীদের কথায়, বিভিন্ন বিচারাধীন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।‌ বিশেষ করে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে ৮০ শতাংশ মামলা বিচারকের অভাবে প্রভাবিত হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।‌ যার ফলে ভোগান্তি বাড়ছে মামলার সঙ্গে যুক্তদের। বর্তমানে আদালতে শুধুমাত্র গুরুত্বের নিরিখে মামলার শুনানি চলছে। যদিও এই অবস্থা শুধুমাত্র কৃষ্ণনগর আদালত নয়, তেহট্ট, নবদ্বীপ, রানাঘাট, কল্যাণীর আদালতের অবস্থাও একই। ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারকরা নিজের আদালতের পাশাপাশি বর্তমানে এসআইআরের নথি যাচাইয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

    আইনজীবীদের বলছেন, বিচারকরা এসআইআরে ব্যস্ত থাকায় মামলার প্রক্রিয়া সেভাবে এগোচ্ছে না। কারো জামিন হলেও ট্রায়াল হচ্ছে না।‌ এই পরিস্থিতিতে যদি এসআইআরের নথি যাচাই পর্বের তারিখ বাড়ানো হয় তাহলে সামগ্রিক বিচার প্রক্রিয়ার উপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে।

    উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দ্বন্দ্বের কারণে এসআইআর প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ছুটি বাতিল করে বিচারকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এসআইআরের নথি যাচাই করার জন্য। সেইমতো নদীয়া জেলাতেও বর্তমান জেলা জজ সহ আট জন বিচারক ভোটারদের নথি যাচাই করছেন। নদীয়া জেলার প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটারের নথি যাচাইয়ের ভার বর্তমানে বিচারকদের উপর পড়েছে। জেলাশাসক অফিস থেকে ছ’টি বিধানসভার ভোটারদের নথি যাচাই করছেন বিচারকরা। সেইমতো এইআরও ভোটারদের কোনো নথি পোর্টালে আপলোড না করে থাকলে সেগুলি বিচারকদের কাছে নিয়ে আনছেন। বিচারকরা সেই সমস্ত নথি খুঁটিয়ে দেখছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে ৫০ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাইয়ের ভার পড়েছে বিচারকদের উপর। যদি দৈনিক ২৫০টি করে নথি যাচাই করা হয় তাহলে সমগ্র প্রক্রিয়া শেষ হতে ৮০ দিন সময় লাগবে বলে‌ মনে করছে সুপ্রিম কোর্ট।

    আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারকরা না থাকার ফলে মাদক মামলায় বিচারাধীন বন্দির সাক্ষ্য গ্রহণ হচ্ছে না। পকসো মামলার ট্রায়াল প্রক্রিয়ার গতি কমেছে।‌ এমনকি বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত মামলারও সাক্ষ্যগ্রহণ হচ্ছে না। যার ফলে এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য মামলার বোঝা চাপছে আদালতের উপর। সেইসঙ্গে খোরপোষের মামলাও ব্যহত হচ্ছে।
    এক আইনজীবীর কথায়, জুডিশিয়াল কোর্টে এক একটি ঘরে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০টি মামলা থাকে। সেশন কোর্টে দিনে গড়ে ১৫টি করে মামলার শুনানি হয়। আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকেও এসআইআরের কাজে নেওয়া হয়েছে।

    আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ফার্স্ট ট্র্যাক-ওয়ান কোর্টের বিচারক কৃষ্ণনগর আদালতের অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জজকে চারটি কোর্টকে দেখতে হচ্ছে। আবার ফার্স্ট ট্র্যাক থার্ড কোর্টের বিচারক তেহট্ট আদালতের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া ফার্স্ট ট্র্যাক ফোর্থ কোর্টের বিচারক নবদ্বীপ আদালতের দায়িত্বে রয়েছেন।‌ এই আইনজীবীর কথায়, ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারকদের পক্ষে অতিরিক্ত এতগুলি কোর্ট সামাল দেওয়া মুশকিল। পাবলিক প্রসিকিউটর দেবাশিস রায় বলেন, এসআইআরের কাজের জন্য আদালতের কাজ এক অনিশ্চিয়তার জায়গায় চলে গিয়েছে।‌ আদালতের দৈনন্দিন কাজ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু বিচারকদের পাওয়া না যাওয়ায় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। কার্যত অচলাবস্থা আদালতে। আপাতত বন্ধ ট্রায়াল প্রক্রিয়া।
  • Link to this news (বর্তমান)