শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: বিএলও’র ভুলে হুলস্থূল কাণ্ড তমলুকে। বৃহস্পতিবার তখন দুপুর। নিমতৌড়ির সার্কিট হাউসের ভিতরে বসে ১১ জন বিচারক নথি যাচাইয়ের কাজ করছেন। গেটের সামনে আচমকা হাজির শতাধিক ভোটার। তাঁদের দাবি, ভেতরে ঢুকতে দিতে হবে। তমলুকের বিডিও ওয়াসিম রেজা এবং পুলিশ অফিসাররা বাধা দেন। অনতি দূরে দাঁড়িয়েছিলেন তমলুকের ২৪ নম্বর পদুমপুর বুথের বিএলও পারভীন আক্তারি। ঢুকতে না পেরে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে দেন ভোটাররা। জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইলের নির্দেশে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) তানিয়া পারভীন। তাঁর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তিনি বিক্ষোভরত ভোটারদের কোনওরকমে বুঝিয়েসুঝিয়ে বাড়ি পাঠান। ঘটনার পর সার্কিট হাউসের নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।
কিন্তু, প্রশ্ন হল আচমকা কেন ভোটাররা কড়া নিরাপত্তা বলয় টপকে সার্কিট হাউসে চলে এলেন? যাঁরা এসেছিলেন তাঁরা প্রায় সকলেই নন ম্যাপিং ও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায় রয়েছেন। সবার কাছে নোটিসও গিয়েছে। কিন্তু এদিন প্রশাসনের তরফে তাঁদের তলবই করা হয়নি। অথচ, পুরুষ, মহিলা, বয়স্ক সকলেই নোটিস নিয়ে চলে আসেন। সকলেই মনে করেছিলেন বিচারকরা তাঁদের মুখোমুখি হয়ে সমস্যার কথা শুনবেন। এমনই নোটিস প্রাপক ভোটার জ্যোৎস্নাতারা বিবি, শেখ রেজাবুল, শেখ জয়নাল, আজিজুল হক বলছিলেন, ‘২৪ নম্বর বুথের বিএলও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি হাজির হন। প্রত্যেককে নথি নিয়ে সার্কিট হাউসে যেতে হবে বলে জানান। তাই আমরা তড়িঘড়ি নোটিসের কপি ও যাবতীয় নথি নিয়ে এখানে চলে আসি। এসে জানতে পারলাম, সার্কিট হাউসের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। কারণ, বিচারকরা নথি যাচাইয়ের সময় কোনও ভোটারের সঙ্গে কথা বলবেন না।’ পরে, বিষয়টি স্পষ্ট হয় বিএলও’র ভুলেই নোটিস প্রাপকরা সার্কিট হাউসে চলে এসেছেন।
নোটিসপ্রাপক শেখ রেজাবুলের ছেলে শেখ তাহের আলি বলেন, ‘আমাদের বুথে মোট ১০৪ জন ভোটার নোটিস পেয়েছেন। বিএলও সকলের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নথি নিয়ে সার্কিট হাউসে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেইমতো আমরা সার্কিট হাউসে এসেছি। বিএলও এরকম একটা ভুল কীভাবে করলেন সেটা বুঝতে পারছি না। সার্কিট হাউসে নিশ্ছিন্দ্র নিরাপত্তা। ভিতরে বিচারকরা নথি যাচাইয়ের কাজ করছেন। সেখানে বহিরাগত কেউ ঢুকতে পারছেন না। এরকম একটি জায়গায় ভোটারদের ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে বিএলও বাড়ি বাড়ি গিয়ে কীভাবে জানিয়ে এলেন, সেটা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।’ সার্কিট হাউসের সামনে বিএলও নিজেও উপস্থিত ছিলেন। ফলে, তাঁকেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। তবে, বিএলও পারভীন আক্তারি এদিন কোনও কথা বলতে চাননি। তমলুকের বিডিও ওয়াশিম রেজা বলেন, ‘সার্কিট হাউসে ভোটারদের আসার কথা নয়। কোথাও ভুল বোঝাবুঝির জেরে এমনটা হয়েছে।’ অনেকটা স্ট্রংরুমের ধাঁচে তমলুকের নব প্রশাসনিক ভবন ক্যাম্পাসে সার্কিট হাউসের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এখানে মোট ১১ জন বিচারক নথি যাচাইয়ের কাজ করছেন। তমলুক, পাঁশকুড়া পূর্ব ও পশ্চিম, ময়না, নন্দকুমার, চণ্ডীপুর প্রভৃতি বিধানসভা এলাকার সন্দেহজনক ভোটারদের নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। এরকম একটি জায়গায় ভোটারদের লাইন দিয়ে চলে আসায় প্রশাসনও ভ্যাবাচাকা খেয়ে যায়। সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষমেষ ভোটারদের বুঝিয়ে শান্ত করে বাড়ি পাঠানো হয় প্রশাসনের তরফে। জানা গিয়েছে, কাঁথি মহকুমা শাসক অফিসে ছ’জন এবং হলদিয়া মহকুমা শাসক অফিসে আরও তিনজন বিচারক নথি যাচাইয়ের কাজ করছেন। এভাবে জেলার ১৬টি বিধানসভা এলাকার সন্দেহজনক প্রায় এক লক্ষ ভোটারের নথি ভেরিফিকেশন করছেন মোট ২০ জন বিচারক।