সংবাদদাতা, মানকর: বাড়ি, বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও মানকরে জলের সমস্যা কাটছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামনেই গ্রীষ্মকাল। অথচ গ্রামের বেশিরভাগ অংশে পানীয় জল পৌঁছাচ্ছে না। এমনকী, মানকরের এই সমস্যা নিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদনও করেছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। কিন্তু তারপরেও সুরাহা হয়নি। যদিও গলসি-১ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনুপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, সমস্যার বিষয়টি জানি। এই নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়মিত কথা হচ্ছে। ওখানে পিএইচই-র তরফ থেকে নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কাজ শেষ হলেই মিটবে সমস্যা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এলাকার অনেকের বাড়িতেই রয়েছে জলের লাইন। দীর্ঘদিন আগে সেই লাইন দেওয়া হয়। প্রথম কয়েকদিন সুতোর মতো জল পড়ছিল। ধীরে ধীরে জল পড়া বন্ধ হয়। জলই যখন পাওয়া যাবে না, তখন কল দেওয়ার দরকার ছিল না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নবজোয়ার কর্মসূচি উপলক্ষ্যে মানকরে এসেছিলেন। সেই সময় এলাকার বাসিন্দাদের তরফে জলের সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা দীপঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জলের সমস্যার কথা জানিয়েছিলাম। দিদিকে বলোতেও ফোন করে সমস্যার কথা জানিয়েছি। বহুদিন ধরেই মানকরে জলের সংকট চলছে। পঞ্চায়েত, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের নজরে এনেও লাভ হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, কল আছে কিন্তু জল নেই। আবার বেশ কিছু জায়গায় জল পড়ে নষ্ট হচ্ছে, সেদিকেও নজর নেই প্রশাসনের।
বিষয়টি নিয়ে সরব হন কংগ্রেস নেতা জয়গোপাল দে। তিনি বলেন, জল পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। আগে সব কলেই জল পড়ত। কিন্তু এখন পরিকল্পনার অভাবে অধিকাংশ মানুষই জল পাচ্ছে না।
বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, প্রতি বাড়িতে পানীয় জলের জন্য কেন্দ্র সরকার ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্প নিয়েছে। প্রকল্প অনুযায়ী ২৭৫ লিটার করে পানীয় জল প্রতিদিন সরবরাহের কথা। কিন্তু তৃণমূল সরকারের অপদার্থতার জন্যই মানকরের মানুষকে ভুগতে হচ্ছে। কল দিলেও রাজ্য সরকার জল দিতে পারছে না।