নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গত রবিবার মধ্যরাতে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল জেএনইউয়ের দুই ছাত্রগোষ্ঠী। বাম পরিচালিত ছাত্র সংসদ এবং গেরুয়া শিবিরের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির সংঘর্ষে তুলকালাম হয়েছিল ক্যাম্পাসে। তার চারদিনের মাথায় ফের উত্তপ্ত হল দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) চত্বর। বৃহস্পতিবার ইউজিসি বিধি কার্যকরের দাবিতে ছাত্র সংসদের আন্দোলন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিসের সঙ্গে ধস্তাধস্তি জড়িয়ে পড়েন পড়ুয়ারা। তাঁদের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের ক্যাম্পাস চত্বরে তালাবন্দি করে রেখেছে দিল্লি পুলিস। বহু পড়ুয়াকে আটকও করা হয়েছে। দিল্লি পুলিসের বিরুদ্ধে বাবাসাহেব বি আর আম্বেদকরকে অবমাননার অভিযোগও তুলেছে জেএনইউ ছাত্র সংসদ। পুলিশের পালটা দাবি, তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়েছেন আন্দোলনকারীরা। এমনকি কয়েকজন পুলিস কর্মীকে কামড়েও দেওয়া হয়েছে। এরফলে একাধিক পুলিস কর্মী আহত হয়েছেন।
দলিত এবং পিছিয়ে পড়া শ্রেণিদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শান্তিশ্রী ডি পণ্ডিত। এজন্য তাঁর পদত্যাগের দাবিতেও এদিন বিকালে ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষামন্ত্রক পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন ছাত্র সংসদের সদস্যরা। তাতে পুলিসের অনুমতি মেলেনি। ছাত্র সংসদের অভিযোগ, এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট তালাবন্ধ করে রাখা হয়। ক্যাম্পাসের ভিতর এবং বাইরে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিস বাহিনী। আন্দোলনকারীরা পাথর মেরে গেটের সমস্ত তালা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। অভিযোগ, তাতে বাধা দেয় পুলিস। এমনকি লাঠি চার্জও করা হয়। যদিও পুলিসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পুলিসের দাবি, ক্যাম্পাসেই পড়ুয়াদের কর্মসূচিতে শামিল হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তা অমান্য করে শ’পাঁচেক পড়ুয়া পুলিসের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করে দেয়।
ইউজিসি বিধি কার্যকরের দাবি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতোই তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের দাবি মানতে হলে আদালত অবমাননা করতে হবে। তা সম্ভব নয়। পড়ুয়ারা অন্যায় দাবি করছেন।