• বড় কম্পন টাকি, বসিরহাটে, কলকাতা ছাড়া ঠিক কোন কোন জেলায় ভূমিকম্প জোরাল ছিল?
    আজ তক | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে উঠেছে ভূমিকম্পে। এখনও পর্যন্ত খবর, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৫.৫। যা জানা যাচ্ছে, শুধু কলকাতা নয়, একাধিক জেলাতেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি কম্পন অনুভূত হয়েছে,  উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলি, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর সহ একাধিক জেলায়। সুন্দরবনও কেঁপে উঠেছে। 

    কম্পন হয়েছে ৫.৫ মাত্রায়

    বস্তুত, আজ অর্থাত্‍ শুক্রবার ভোরে মৃদু ভূমিকম্প হয়েছে দার্জিলিং পাহাড় ও সিকিমেও। কিন্তু দুপুরে দক্ষিণবঙ্গে যে বড়সড় কম্পন অপেক্ষা করছে, তা বোঝা গেল কাঁপুনিতে। দুপুর ১টা ২২ মিনিটে জোরাল ভাবে কেঁপে ওঠে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রাথমিক ভাবে জানা যায়, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৪.৯। কিন্তু খানিক পরেই আমেরিকার ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি-র তথ্যে দেখা যায়, কম্পন হয়েছে ৫.৫ মাত্রায়।

    পশ্চিমবঙ্গে কোন কোন জেলায় কম্পন ও সবচেয়ে বেশি অনুভূত কোথায়?

    বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খবর অনুযায়ী, মূলত বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলিতেই বেশি কম্পন অনুভূত হয়েছে।   উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলি, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর সহ একাধিক জেলা কেঁপেছে। বাংলাদেশের সাতক্ষীরার কাছে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট, টাকিতে সবচেয়ে বেশি কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। 

    ভূমিকম্পের এপিসেন্টার কোথায় ছিল?

    ভূমিকম্পের এপিসেন্টার ছিল বাংলাদেশ। খুলনার সাতক্ষীরায়। সাতক্ষীরা জেলাটি একেবারেই পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন। টাকির ঠিক ওপারে। টাকি থেকে যার দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। সেই কারণেই বসিরহাট, টাকিতে বেশি কম্প অনুভূত হয়েছে। ঢাকা থেকে কম্পনের এপিসেন্টারের দূরত্ব ১৮৮ কিলোমিটার।

    ভূমিকম্প কেন হয়?

    পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ কয়েকটি বড় ও ছোট টেকটোনিক প্লেটে ভাগ করা। এই প্লেটগুলি ক্রমাগত খুব ধীরে ধীরে নড়াচড়া করে। অনেক সময় প্লেটগুলির সীমানায় ফাটল বা ফল্ট লাইনের দু’পাশে থাকা শিলাস্তর দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের সঙ্গে আটকে থাকে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে চাপ জমতে থাকে। এই চাপ মূলত পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপ ও গলিত পদার্থের গতির কারণে তৈরি হয়। প্লেটগুলি যখন একে অপরের দিকে ঠেলে আসে, দূরে সরে যায় বা পাশাপাশি ঘষে সরে যায়, তখন শিলাস্তরে প্রচণ্ড টান ও চাপ তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা এই চাপ একসময় সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়। তখন হঠাৎ করে শিলা ভেঙে যায় বা সরে যায়। আর সেই মুহূর্তেই মুক্তি পায় বিপুল শক্তি, যা তরঙ্গের আকারে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই শক্তির তরঙ্গই ভূমিকম্পের কম্পন তৈরি করে।
  • Link to this news (আজ তক)