• ভূমিকম্পে রাস্তায় বিরাট ফাটল, বেহালা পর্ণশ্রীতে আতঙ্কে স্থানীয়রা
    আজ তক | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • শুক্রবার দুপুরে হঠাৎ কেঁপে উঠল কলকাতা। রিখটার স্কেলে ৫.৫ মাত্রার জোরাল ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়াল শহরজুড়ে। উত্তর থেকে দক্ষিণ; বিস্তীর্ণ এলাকায় টের পাওয়া গেল কম্পন। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ছবি ধরা পড়ল বেহালার পর্ণশ্রী এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, ভূমিকম্পের জেরে সেখানে একটি নবনির্মিত রাস্তায় ফাটল ধরেছে। পুকুরপাড় সংলগ্ন রাস্তায় চির ধরা পড়েছে। এমনকি ফাটলের নিচে রাস্তার ঝামার স্তরও দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রায় ৪০ ফুট এলাকাজুড়ে ফাটল দেখা যাচ্ছে।

    দুপুর ১টা ২২ মিনিট নাগাদ প্রথম কম্পন অনুভূত হয়। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আরও একটি ঝটকা টের পান বহু মানুষ। অনেকের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে ভেসে ওঠে ‘Earthquake Alert’। মুহূর্তের মধ্যে বহুতল থেকে নেমে আসেন বাসিন্দারা। অফিসপাড়ায় কর্মীরাও বিল্ডিং ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নেন। স্কুল-কলেজ চত্বরে পড়ুয়াদের মধ্যে হুলস্থূল পড়ে যায়। পুলিশ কর্মীদেরও থানার বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।

    প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎসস্থল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা এলাকা, খুলনা সীমান্তের কাছাকাছি। কম্পনের প্রভাব পড়েছে কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ একাধিক জেলায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে কম্পনের অভিজ্ঞতা; কারও সিলিং ফ্যান দুলেছে, কারও টেবিল-চেয়ার কেঁপে উঠেছে, কারও বা জলের বোতল দুলে ওঠায় প্রথম সন্দেহ হয়।

    তবে বেহালার পর্ণশ্রীতে রাস্তায় ফাটল ধরা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পুকুরের ধারে সম্প্রতি ওই রাস্তা তৈরি হয়েছিল। ভূমিকম্পের কম্পনেই সেখানে চির ধরেছে। প্রশাসনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না মিললেও, এলাকা পরিদর্শনের দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাধার সংলগ্ন নরম মাটি বা অপর্যাপ্ত সাপোর্ট থাকলে কম্পনের প্রভাবে এ ধরনের ফাটল দেখা দিতে পারে।

    উল্লেখযোগ্য বিষয়, চলতি মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কলকাতায় ভূমিকম্প। এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি রাতেও কেঁপে উঠেছিল শহর। সেবার কম্পনের উৎসস্থল ছিল মায়ানমার, মাত্রা ছিল ৬। এছাড়াও শুক্রবার সকালেই উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছিল বলে খবর।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাঙ্গেয় অববাহিকার মাটি তুলনামূলক নরম হওয়ায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও কম্পন বেশি অনুভূত হয়। যদিও ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হয় না। তবু বহুতল ও নতুন নির্মাণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। 
     
  • Link to this news (আজ তক)