• সীমান্তে কাঁটাতার: জমি-জট কাটাতে রাজ্যের পদক্ষেপ
    আনন্দবাজার | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে রাজ্য সরকারের উপর। বাংলাদেশ-নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই চাপ আরও বেড়েছে। রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে যে সভাগুলি এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করেছেন, সেখানেও এই প্রশ্নে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা নিয়ে সরব হচ্ছে কেন্দ্র। এই অবস্থায় শতাধিক একর জমি হস্তান্তরের জন্য সুনির্দিষ্ট সরকারি পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার।

    প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সীমান্তে কাঁটাতার বসানো এবং সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) জন্য সীমান্ত-আউটপোস্ট তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ১০৫ একর জমি হস্তান্তরের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে সরকারি স্তরে। এই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিগোষ্ঠী।

    সম্প্রতি জমি-দেওয়ার প্রশ্নে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে একটি মন্ত্রিগোষ্ঠী গড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার এই গোষ্ঠীর প্রথম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে খবর। স্থির হয়েছে, আপাতত যে জমি দেওয়ার প্রস্তাব হয়েছে, তাতে সীমান্তের ১৭ কিলোমিটার বরাবর কাঁটাতার দেওয়া যাবে। আরও ন’টি সীমান্ত চৌকিও গড়া সম্ভব। মালিকদের থেকে সরাসরি কিনে তা জেলা প্রশাসনগুলির মাধ্যমে বিএসএফের হাতে তুলে দিতে চায় নবান্ন। সীমান্ত এলাকায় রাজ্যের হাতে থাকা আরও প্রায় ২৫ একর জমি হস্তান্তরের প্রস্তাবও মন্ত্রিসভার সম্মতির জন্য পাঠানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    প্রশাসনিক সূত্র জানাচ্ছে, এর আগেও মন্ত্রিসভার একাধিক বৈঠকে জমি দেওয়ার ছাড়পত্র মিলেছিল। তার পরেও সরকারি কোনও দফতরের জমি বিএসএফের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর করাও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে রাজ্য সরকারের উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছেন। ভোট-প্রচারে এই অভিযোগের ঝাঁঝ আরও বাড়তে পারে। তাই জমি-জট কাটানোর এই একটি পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)