রাত পোহালেই কোচবিহারে পৌঁছবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহারের অন্তত ২৪টি স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের রাখা হতে পারে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি স্কুলে চিঠি দিয়েও তা জানানো হয়েছে। যার ফলে এ দিন থেকেই একাধিক স্কুলে শৌচাগার মেরামতি থেকে বিদ্যুতের কাজ শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় আগামী মাসের ‘সামেটিভ পরীক্ষা’ নিয়ে চিন্তা শুরু হয়েছে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে। কোচবিহারের পুলিশ সুপার সন্দীপ কাররা বলেন, ‘‘১ মার্চ কেন্দ্রীয় বাহিনী জেলায় পৌঁছবে। কিছু জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাখা হবে, তা চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে স্কুল রয়েছে।’’ কোচবিহার জেলা স্কুল পরিদর্শক সমর মণ্ডল বলেন, ‘‘আমাদের কাছে কিছু স্কুলের নাম চাওয়া হয়েছিল। আমরা ব্লক প্ৰতি দু’টি করে স্কুলের নাম দিয়েছি।’’
কোচবিহার জেলায় রয়েছে বারোটি ব্লক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় কোচবিহারে পৌঁছবে ৯ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম দফায় কোচবিহার সদর মহকুমার দু’টি ব্লকের চারটি স্কুলে তাদের রাখা হবে। এ ছাড়া দিনহাটা, মাথাভাঙার মতো মহকুমাতেও কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা হবে। কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের পাতলাখাওয়া হাইস্কুলে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রবীর মিত্র বলেন, ‘‘আমাদের কাছে চিঠি এসেছে। কিছু কাজও করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকাতে পড়াশুনোর কিছু সমস্যা তো হবে। সামনে পরীক্ষাও রয়েছে।’’
একাধিক স্কুল সূত্রেই জানা গিয়েছে, এপ্রিল মাসের প্রথমেই প্রথম ‘সামেটিভ’ পরীক্ষা হওয়ার কথা। রাজ্য জুড়ে একই সময়ে ওই পরীক্ষা হয়। তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সংগঠনের কোচবিহার জেলা সভাপতি মানস চক্রবর্তী বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী যে স্কুলে থাকবে, সেখানে ক্লাস করানো যাবে না। স্বাভাবিক ভাবেই পড়াশুনোর অনেকটা ঘাটতি হবে। সেই সঙ্গে পরীক্ষার সময়ও সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ কতটা সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে তা আগাম জানা সম্ভব না।’’ বিজেপির শিক্ষক সংগঠনের নেতা বিনয় সরকার বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলে পড়াশুনোর সমস্যা কিছুটা হবে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলার যা অবস্থা তাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া উপায়ও নেই।’’