বিধানসভা ভোটের মুখে সাঁকরাইলের দলীয় বিধায়ক প্রিয়া পালের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুললেন স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের একাংশ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ নানা অভিযোগে মাসখানেক আগে তাঁরা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক কাশেম সিদ্দিকীকে চিঠি দিয়েছেন বলে দলেরই সূত্রের খবর। এ নিয়ে শোরগোল পড়েছে তৃণমূলের অন্দরে। প্রিয়া ওই চিঠিকে গুরুত্ব দেননি। অভিযোগও মানেননি।
প্রিয়ার দাবি, শক্ত হাতে দলীয় সংগঠনের হাল ধরায় কিছু নেতা লুটেপুটে খেতে পারছেন না। তাই কুৎসা করছেন। তিনি বলেন, ‘‘কিছু দলীয় কর্মী ভেবেছিলেন, বিধায়ক মহিলা হওয়ায় লুটেপুটে খাবেন। সেটা হতে দিইনি। তাই মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। সাঁকরাইলবাসী জানেন, কী ভাবে উন্নয়নের কাজ করেছি।’’
বিধায়ক আমল না দিলেও নির্বাচনের মুখে এমন চিঠি যে দলের পক্ষে অস্বস্তির, মানছেন হাওড়া গ্রামীণ জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান কালীপদ মণ্ডল বলেন, ‘‘এমন চিঠি এলে তো অস্বস্তি হয়ই। বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’’ কাশেম সিদ্দিকী বলেন, ‘‘বহু জায়গা থেকে নানা বিষয়ে অনেক চিঠি আসে, সব দেখা হয়ে ওঠেনি। এ ক্ষেত্রে কে কী চিঠি দিয়েছেন, জানি না। দেখব।’’
তৃণমূল সূত্রে খবর, সাঁকরাইল বিধানসভায় দলের বেশ কয়েক জন অঞ্চল সভাপতি, পঞ্চায়েতের প্রধান-উপপ্রধান, সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য প্রিয়ার নামে ওই চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তাঁদের অভিযোগ, ‘সাঁকরাইল শিল্পাঞ্চলে সমাজবিরোধী এবং তোলাবাজদের নিয়ে দল পরিচালনার নামে তোলাবাজি করছেন বিধায়ক’। দলের কর্মীদের গুরুত্ব না দিয়ে বিজেপি এবং আইএসএফ কর্মীদের প্রাধান্য দেন তিনি। দলের পুরনো কর্মীদের অবজ্ঞা করে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যদের নিয়ে মাতামাতি করেন। ফলে, দলের ক্ষতি হচ্ছে।
সারেঙ্গা পঞ্চায়েতের এক তৃণমূল সদস্য বলেন, ‘‘উনি বিজেপির লোকজনকে নিয়ে চলেন। দলের ক্ষতি করছেন।’’ সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ মান্নান মোল্লার ক্ষোভ, ‘‘বিরোধীদের কথায় দলের একাধিক কর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন বিধায়ক। তাঁর কথা না শুনলেই পুলিশকে দিয়ে হুমকি দেন। পুরো বিষয়টি আমরা দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানিয়েছি।’’
স্থানীয় বিজেপি নেতা মোহিত ঘাঁটির কটাক্ষ, ‘‘বিধায়ক কী ভাবে তোলাবাজি করছেন, সকলেই দেখছেন। ওঁদের কর্মীরাই বিধায়ককে তোলাবাজ বলছেন।’’ বিধায়কের সঙ্গে দলের কর্মীদের সখ্যের কথা অবশ্য মানেননি বিজেপি নেতৃত্ব। সিপিএমের হাওড়া জেলা সম্পাদক দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া, ‘‘তৃণমূলের বিধায়ক তোলাবাজ, এতে নতুনত্ব কিছু নেই। সাঁকরাইলের বিধায়ক তোলাবাজি করছেন, তৃণমূল কর্মীরাই বলছেন।’’