সময় ২৪ ঘণ্টা। তার মধ্যেই এসআইআরের বাঁকুড়া জেলার ভোটার তালিকার প্রায় সাড়ে ১৯ লক্ষ পাতা ছাপানোর কাজ সেরে ব্লক লেভেল অফিসারদের (বিএলও) হাতে তা পৌঁছে দিতে হবে। শুক্রবার ভোর-রাতে তাই ইন্টারনেটে প্রথম দফার ভোটার তলিকা পেয়েই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে শুরু হয় ছাপানোর কাজ। তবে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন ছাপানো চূড়ান্ত ভোটার তালিকা কবে বিএলওদের দিতে পারবে তা নিশ্চিত ভাবে জানাতে পারেনি।
আজ, শনিবার প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতে চলেছে। কত জনের নাম থাকছে, নাম বাদ যাচ্ছে তা নিয়ে তুমুল কৌতূহল রয়েছে। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, শুক্রবার ভোরেই ছাপানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে ভার্চুয়াল কপি পাঠানো হয়। আজ, শনিবার সকালেই তা জেলা প্রশাসনের কাছে এসে পৌঁছনোর কথা।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, “আমরা নির্দিষ্ট দিনে সময় মতো প্রতিটি বিএলও এবং ব্লক অফিসে চূড়ান্ত তালিকা পৌঁছে দেব। তবে রাজনৈতিক দলগুলি নির্দিষ্ট দিনেই ভার্চুয়াল কপি পেয়ে গেলেও প্রিন্ট কপি হাতে পাবে এক দিন পরে।”
বাঁকুড়ার এক বিএলও বলেন, “মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নিজের বা আত্মীয় পরিজনদের নাম ভোটার তালিকায় দেখার জন্য। জেলা প্রশাসন নির্দিষ্ট দিনে তালিকা আমাদের হাতে তুলে দিলে সবার উপকার হবে।’’
পুরুলিয়ার জেলাশাসক কোন্তম সুধীর জানান, ভোটার তালিকা আজ, শনিবার অনলাইনে প্রকাশিত হবে। তবে এর ছাপানো সংস্করণ পেতে আরও তিন-চার দিন সময় লাগবে। ছাপানোর পরে সেই তালিকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিএলও-দের দেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে তালিকাটি সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতেও টাঙিয়ে দেওয়া হবে।
পুরুলিয়াতে তৃণমূলের বিএলএ ১ তথা দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুষেণ মাঝি বলেন, ‘‘আমাদের কাছে ছাপানো তালিকা থাকলে দ্রুত তৃণমূল স্তরে গিয়ে লোকজনের কৌতূহল নিরসন করতে পারতাম। লোকে রাজনৈতিক নেতাদের কাছেই এ সংক্রান্ত খোঁজখবর আগে করেন। নির্বাচন কমিশনের এই রকম তুঘলকি সিদ্ধান্তের ফলে আমরা খুব বিড়ম্বনার মধ্যে পড়ছি।’’ সুষেণের দাবি, পুরুলিয়ার মতো জেলার গ্রামাঞ্চলে বড় অংশের বাসিন্দাই ইন্টারনেটের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ওই ভোটারেরা কী ভাবে অনলাইনে ভোটার তালিকায় নাম খুঁজবেন? বিজেপির বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনিক কো-অর্ডিনেটর সব্যসাচী রায় বলেন, “আমরা ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভার্চুয়াল কপি দেখাব।’’