গোয়ালঘরে বধূকে দাঁড় করিয়ে বাংলার আবাসে বঞ্চনা নিয়ে তোপ বিজেপির
বর্তমান | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: গরিব মানুষের পাকা বাড়ি নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। এবার সেই আবাস যোজনা প্রকল্প নিয়েই মিথ্যাচার করার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরগরম পাণ্ডবেশ্বর। অভিযোগ, এক হাজার টাকা দিয়ে বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি গ্রামের এক গৃহবধূকে গোয়াল ঘর দেখিয়ে বলতে বলেন, তৃণমূল সরকার তাঁকে সরকারি বাড়ি দেওয়া থেকে বঞ্চিত করেছে। তৃণমূলের সদস্য ও এলাকায় পঞ্চায়েত প্রধান এলাকায় গিয়ে দেখেন ওই বধূর পাকা বাড়ি রয়েছে। বাড়িতে বিশাল এলইডি টিভি ও ফ্রিজও রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই সেই ভিডিও প্রকাশ করে দেয় তৃণমূল। যা নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।
ঘটনার সূত্রপাত জিতেন্দ্র তেওয়ারির অনুগামীদের পোস্ট করা এক ভিডিও ঘিরে। পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার বৈদ্যনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হুচুকডাঙা এলাকার বধূ সুন্দরা সূত্রধর। একটি চালা ঘরের সামনে জিতেন্দ্র তেওয়ারির সঙ্গে তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে তিনি বলেন, এটাই আমার ঘর। ঘরের টাকা আসছে তবু আমার নাম কেটে দিচ্ছে। পাকা বাড়ি করে দিচ্ছে না পঞ্চায়েত। বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি এই ঘর দেখিয়ে পাণ্ডবেশ্বরে উন্নয়ন নিয়ে তৃণমূল ও বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে তীব্র আক্রমণ করেন। এই তথ্যকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কর্মীরা ও পঞ্চায়েত সদস্যরা যান সুন্দরার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে। তখন দেখা যায়, ভাঙা চালা ঘরটির পাশেই বড় পাকা বাড়ি রয়েছে। তাতে নতুন রঙ করা ঘর রয়েছে সুন্দরার। বাড়ির দেওয়ালে টাঙানো রয়েছে বিশাল এলইডি টিভি। ঘরের ভিতর সাজানো যাবতীয় আসবাব। সেই পাকা বাড়ির সামনেই সুন্দরা দাবি করেন, আমাকে এক হাজার টাকা দিয়ে এসব বলতে বলা হয়েছিল। যেখানে ভিডিও করা হয়েছিল সেটা আমার গোয়ালঘর।
শুধু এই ঘটনাই নয়, পাণ্ডবেশ্বরের পাশাপাশি জামুড়িয়া, বারাবনি বিভিন্ন জায়গাতেই কাঁচা বাড়ির কাছে নিয়ে বিজেপি নেতারা গ্রামের মানুষকে বাড়ি না দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের দাবি, যোগ্য মানুষরা বাড়ি পাচ্ছেন না। যাঁদের প্রয়োজন নেই তাঁদের বাড়ি দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এই বিজেপি নেতারাই কেন্দ্র কেন আবাস যোজনার টাকা আটকে রেখেছে, তা নিয়ে নীরব। শিল্পাঞ্চলজুড়ে এনিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। তারপর হুচুকডাঙার ঘটনায় বিজেপি নেতাদের পোস্ট করা ভিডিও সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেল। যা নিয়ে বেশ বিড়ম্বনায় পড়েছে গেরুয়া শিবির।
তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তথা পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, পাণ্ডবেশ্বরের মাটিতে বহু রাজনৈতিক লড়াই হয়েছে। কিন্তু একজন প্রাক্তন বিধায়ক এভাবে টাকা দিয়ে মিথ্যাচার করাচ্ছেন, এটা কল্পনা করা যায়না। এটা রাজনীতির একটা কালো অধ্যায় হিসাবে উল্লেখ থাকবে। গরিব মানুষটির কোন দোষ নেই। বিজেপি এক হাজার টাকা দিয়ে তাঁর সততাকে কিনে তাঁকেও অপমানিত করেছে। যে বিজেপি সরকার বাংলার মানুষের বাড়ির টাকা আটকে রাখে, তাঁরা গরিবের বঞ্চনা নিয়ে কথা বলে কোন মুখে। এবার বাংলার মানুষ বিজেপি নেতাদের কাছে আওয়াজ তুলবে কেন কেন্দ্র বাড়ির টাকা দিল না, জবাব দাও।
বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন, তৃণমূলের টাকার ক্ষমতার কাছে কেউ পারবে? তৃণমূলই টাকা দিয়ে মহিলাকে মিথ্যা কথা বলাচ্ছে।