• বর্তমান উপাচার্যের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে খোলা চিঠি বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্যের
    বর্তমান | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে খোলা চিঠি লিখলেন বিতর্কিত প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। শুক্রবার সকাল থেকেই তাঁর চিঠিটি সমাজ মাধ্যমে ঘুরতে থাকে। সেখানে তিনি বর্তমান উপাচার্যের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি লিখেছেন, বিশ্বভারতীর সাম্প্রতিক অবনমন এবং চারদিকে সমালোচনার আবহ তাঁকে ব্যথিত করেছে। একজন প্রাক্তন উপাচার্য ও বাঙালি হিসেবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতেই তিনি এই চিঠি লিখেছেন বলে জানান। ২০১৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বভারতীর উপাচার্য ছিলেন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। একাধিক ইস্যুতে বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। দায়িত্বে থাকার সময় ও পরেও তিনি একাধিক খোলা চিঠি লিখেছেন। এদিনের চিঠিতে তিনি বর্তমান উপাচার্যের নিয়োগ প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘এই প্রথম একজন উপাচার্য হলেন, যিনি কিনা প্রফেসর নন, যা ঐতিহাসিক ঘটনা। তবে, আশাকরি যখন তাঁর নিয়োগে রাষ্ট্রপতি মহোদয়া অনুমতি দিয়েছেন, তখন নিশ্চয়ই কোনোরকম অনিয়মহয়নি।’

    তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ‘বিশ্বভারতীর উপাচার্যদেরনামের তালিকায় বর্তমান উপাচার্য ডঃ প্রবীরকুমার ঘোষের নাম বেমানান লাগবে।ভবিষ্যতে এ ধরনের নিয়োগের নজির আরও তৈরি হতে পারে।’ এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি। এছাড়াও মেলা মাঠ ঘেরার সময় সুরেন করের ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ গেট ভাঙার ঘটনাও তিনি তুলে ধরেন চিঠিতে। সেই ভাঙা অংশ সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাস জানানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি তাঁর। কিন্তু পরে সেই নিদর্শন সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও চিঠিতে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘ইতিহাসকে এভাবে মুছে ফেলা যায় না।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি সোমনাথ মন্দিরের পুনর্জাগরণের কথা উল্লেখ করেন। তবে বর্তমানে হেরিটেজ ওয়াকের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে উঠে আসছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিশ্বভারতীতে সার্বিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বাংলা ও ইতিহাস বিভাগে দুর্নীতির অভিযোগ বিভিন্ন উচ্চস্তরে পৌঁছেছে বলে দাবি করেন বিদ্যুৎবাবু। এর জেরে নিয়োগ আপাতত স্থগিত রয়েছে বলেও চিঠিতে জানান তিনি। জমি দখল প্রসঙ্গেও সরব হন প্রাক্তন উপাচার্য। অতীতে জমি উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং বর্তমান প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে কড়া নজরদারির আহ্বান জানান প্রাক্তন উপাচার্য। চিঠির শেষে তিনি স্পষ্ট করেন, কারও সমালোচনা করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। সকলের সম্মিলিত উদ্যোগেই বিশ্বভারতীর পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি যেহেতু কোনও অফিসিয়াল যোগাযোগ নয়, তাই কর্তৃপক্ষ আপাতত এ নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ।এই প্রসঙ্গে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
  • Link to this news (বর্তমান)