নিজস্ব প্রতিনিধি, রানিগঞ্জ: রানিগঞ্জের এগারা কোড়া পাড়ায় শুক্রবার জনসংযোগে বেরিয়ে বাসিন্দাদের প্রশ্নের মখে পড়লেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্র পল। এদিন তাঁকে দেখে ওখানকার বাসিন্দা সুনীল বাউরি বলেন, এখানে জলের খুব কষ্ট। পুকুর সংস্কার না হওয়ায় মেয়েরা স্নান করতে পারছে না। তাঁকে থামিয়ে বিধায়ক বলেন, এবার পরিবর্তন না হলে বিপদ। আপনিও মোদিজির হাত শক্ত করুন। সব সমস্যা মিটবে। জনসংযোগে বেরিয়ে বাসিন্দাদের প্রশ্নের মুখে পড়ে এমনই উত্তর দিচ্ছেন বিজেপি বিধায়ক। এছাড়া এদিন সিপিএম কর্মী-সমর্থকদেরও বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য বলেন রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি। যদিও সিপিএম, তৃণমূলের কটাক্ষ, পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে খড়কুটো আঁকড়ে ধরতে চাইছেন বিধায়ক।
বিজেপি বিধায়কের বিধানসভা এলাকাতেও প্রবল জল সংকট রয়েছে। জনসংযোগের সময় একের পর এক প্রশ্ন ধেয়ে আসছে বিধায়কের দিকে। এগারা জামাইপাড়ার অনিতা মণ্ডল ক্ষিপ্ত গলায় বলেন, আপনি আগের ভোটের আগে এখানে এসেছিলেন। বলেছিলেন পুকুর সংস্কার করবেন। ভোট পেয়ে জিতে গেলেন। আর পাঁচ বছরেও পুকুর সংস্কার হল না। পুলিশ নানা কারণে আমাদের হয়রান করেছে একবারও খোঁজ নেননি। সঙ্গে সঙ্গে বিধায়ক ফোন নম্বর লিখে দিয়ে বলেন, কোনো সমস্যা হলে আমায় ফোন করবেন। পাশের বাড়ির সুবলচন্দ্র সাহাকে বলেন, দাদা এবার একটু দেখবেন। সুবলবাবু তার উত্তরে বলেন, আগের বারও তো আপনাকে দেখেছিলাম। কিন্তু, গত পাঁচ বছর আমাদের কেউ দেখেনি। জলের ব্যবস্থা হল না।
এরই মাঝে বিজেপি নেত্রীর ফোন বেজে উঠল। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে ছেলে খবর দিল কলকাতায় ভূমিকম্প হয়েছে। নিচে নেমে যা বলেই নেত্রী আরও এগিয়ে গেলেন। সর্বত্রই জল সংকটের কথা শুনলেন। পাঁচ বছর বিধায়ক থাকার পরও তিনি কিছু করেননি। এই অভিযোগ বার বার শুনলেন। তিনি বলেন সরকার বদল না করলে কিছু করা সম্ভব নয়। সরকার বদল করুণ এই উত্তর দিয়ে ভোটারদের প্রশ্নবান সামলালেন তিনি। কোড়াপাড়ার যুবতী কনিকা বাউরি বলেন, এখানে বাড়ি বাড়ি জলের পাইপ লাইন বসেছে। কিন্তু জল আসে না। এলাকায় শৌচালয়ও নেই। আমাদের খুব অসুবিধা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ইসিএলের কুনুস্তোড়িয়া এরিয়ার জিএমকে ফোন করে অনুরোধ করেন এগারা কোড়াপাড়ায় এক ট্যাঙ্কার করে জল দেওয়ার জন্য। আবার নেত্রী কখনো স্কুল পড়ুয়াদের সঙ্গে ফুচকা খেলেন। সবার মুখে একটাই কথা জল সংকট। জলের হাহাকার নিয়ে মানুষে ক্ষোভ শাসক দলের উপরেই চাপাতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে এলাকা ছাড়লেন বিজেপি নেত্রী।
অগ্নিমিত্রা পল বলেন, বিধায়ক হওয়ার পর পুকুর সংস্থার করতে চেয়ে ছিলাম। কিন্তু পুকুর মালিকরা অনুমতি দেননি। ইসিএলকে কিছু জায়গায় জল দিতে বলেনি। রাজ্য সরকার এলাকায় জল দিতে ব্যর্থ। বালি লুটের জন্য এই জল সংকট। আমি সিপিএম কর্মীদেরও বিজেপিকে ভোট দিতে বলছি। এবার বাংলা বাঁচানোর লড়াই। মতাদর্শ সরিয়ে বিজেপিকে ভোট দিতে হবে।
সিপিএম এরিয়া সম্পাদক সুপ্রিয় রায় বলেন, যাঁদের কোনও মতাদর্শই নেই তাঁরাই মতাদর্শ সরিয়ে রাখতে বলতে পারেন। পাঁচ বছর এলাকার জন্য কিছুই করেননি। তাঁর দল কেন্দ্রে ক্ষমতায় রয়েছে। তিনি কেন্দ্রের কোনও প্রকল্প আনতে পেরেছেন। উনি কারো ভোটই পাবেন না। তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, অগ্নিমিত্রার হার নিশ্চিত তাই সিপিএমকে ধরে বাঁচতে চাইছেন।