• বড়বাজার ও পোস্তায় পরপর চুরি, দু’টি গ্যাংয়ের মাস্টারমাইন্ড ২ ভাই
    বর্তমান | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১০ দিনের ব্যবধানে দু’টি চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল কলকাতার বাণিজ্যিক এলাকায়। চুরির অভিযোগে বৃহস্পতিবার দু’টি গ্যাংয়ের ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের জেরা করে চোখ কপালে গোয়েন্দাদের। জানা যায়, দু’টি পৃথক গ্যাংয়ের ‘মাস্টারমাইন্ড’ দুই ভাই। তাদের কারসাজিতে চলছিল একের পর এক অপারেশন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম চুরিটি হয় পোস্তা এলাকার একটি বাড়িতে। চুরি গিয়েছিল টাকা ভরতি বাক্স। দ্বিতীয় চুরিটি বড়বাজার থানা এলাকায়। ফুটপাতে থাকা দোকানের তালা ভেঙে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ইমিটেশনের গয়না চুরি যায়। তদন্তে নামে লালবাজারের গোয়েন্দারা। জানা যায়, দু’টি চুরির ক্ষেত্রে আলাদা গ্যাং জড়িত। কিন্তু, টিম লিডার একে অপরের ভাই। নাম নারায়ণ বাগ ও পূর্ণ বাগ। বাড়ি বরানগর। এই দুই ভাই সহ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হল সইরব মিদ্দ্যা, অতুল কুমার, তুষার সর্দার, জিৎ সইল। ধৃতদের জিজ্ঞাসা করে জানা গিয়েছে, রাতের বেলা সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, বড়বাজার, পোস্তা এলাকায় ঘুরে বেড়াত তারা। টার্গেট করত ফুটপাত ও সংলগ্ন বাড়ি। বৃহস্পতিবার ৬ অভিযুক্তকে বিটি রোডের উপর ডানলপ বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা বিভাগের ওয়াচ শাখা।

    লালবাজার জানিয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম অভিযোগ জমা পড়ে। পোস্তা থানা এলাকার রাজা ব্রজেন্দ্র নারায়ণ স্ট্রিটের বাসিন্দা রাজদীপ গুপ্তা পুলিশকে জানান,তাঁর বাড়ি থেকে চুরি গিয়েছে মন্দিরের প্রণামী বাক্স। তাতে আনুমানিক ২০ হাজার টাকা ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে করে পোস্তা থানার পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। তাতে তিনজনকে দেখা যায়। কিন্তু, তাদের শনাক্ত করতে পারেনি থানা।

    দিন দশেক পরে ফের রাতের বড়বাজার এলাকার একটি ফুটের স্টলে চুরির অভিযোগ ওঠে। কটন স্ট্রিটে ইমিটেশনের একটি স্টল রয়েছে ওম প্রকাশ সাউয়ের। তাঁর অভিযোগ, রাত সাড়ে ১১টা থেকে পরের দিন ভোর সাড়ে আটটার মধ্যে তাঁর স্টল থেকে সমস্ত ইমিটেশনের গয়না চুরি যায়। ব্যবসায়ীর দাবি, খোয়া যাওয়া গয়নার মূল্য প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। মামলা রুজু করে তদন্তে নামে বড়বাজার থানা। এখানেও তিনজন অভিযুক্তকে ধরা পড়ে সিসি ক্যামেরার। দু’টি ঘটনার ক্ষেত্রেই চুরির সময়, ধরন ও অভিযুক্তের সংখ্যা দেখে সন্দেহ হয় লালবাজারের। তদন্তভার নেয় গোয়েন্দা বিভাগের ওয়াচ শাখা। তাতেই ফাঁস হয় দুই ভাইয়ের কীর্তি।
  • Link to this news (বর্তমান)