• মাইক্রো অবজার্ভারদের চক্রান্ত ফাঁস, পাসপোর্ট-বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়া সত্ত্বেও ‘রোল ব্যাক’, গেরুয়া রাজনীতি?
    বর্তমান | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবারও অভিযোগ করেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উড়িয়ে গোপনে নাম বাদ দিচ্ছে কমিশন। সে যে ফাঁকা আওয়াজ ছিল না, তারই হাতেগরম প্রমাণ মিলল। তাও কাগজে-কলমে। লাগাতার বাড়তে থাকা লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি, নথি জমা সত্ত্বেও সন্দেহজনক ভোটার হিসাবে দেগে দেওয়া এবং বারবার শুনানির লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করা—এর নেপথ্যে মাইক্রো অবজার্ভারদের চক্রান্ত ফাঁস হয়ে গেল। কারণ দেখা যাচ্ছে, কমিশন নির্ধারিত ১৩টি নথির মধ্যে একাধিক দাখিল করা সত্ত্বেও স্রেফ ‘রোল ব্যাক’ করা হয়েছে বহু ভোটারকে। তার মধ্যে যেমন রয়েছে জন্ম শংসাপত্র, পাসপোর্ট, তেমনই আছে সরকারি পেনশন অর্ডারও! কীসের ভিত্তিতে প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারের আবেদন ফেরত পাঠানো হল? তার কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যাই নেই! আর তাই এসআইআরের প্রথম তালিকা বেরনোর মুখে এটাই জ্বলন্ত ইস্যু।

    নির্বাচন কমিশন বিজেপির ‘বি টিম’ হিসাবে কাজ করছে। ভোটের মুখে বেছে বেছে নাম বাদ দিচ্ছে। নোটিস পাঠাচ্ছে সংখ্যালঘু এলাকাগুলিকে নিশানা করে। এমন বিস্ফোরক অভিযোগ করে এসেছে তৃণমূল। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর মাইক্রো অবজার্ভারদের এহেন ভূমিকা সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ঠিক? নেপথ্যে রয়েছে গেরুয়া রাজনীতি? বিজেপির ছোটো-বড়ো নেতারা শুরু থেকেই যে দাবি করে চলেছেন, এসআইআরের পর বাংলায় দেড় কোটি নাম বাদ যাবে, তাতেই সিলমোহর দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চলছে? খসড়া তালিকা প্রকাশের পর একটা বিষয় তো স্পষ্ট—বিজেপির দাবি মতো পশ্চিমবঙ্গে এক কোটি বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নেই। তাই এবার শুরু হয়েছে ‘রোল ব্যাক রাজনীতি’।

    শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর নিষ্পত্তি না হওয়া ভোটারদের নথি আপাতত খতিয়ে দেখছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। কমিশনের তরফে এমন প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের তালিকা তুলে দেওয়া হয়েছে বিচারকদের হাতে। তা না হলে লক্ষ লক্ষ এমন বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়াটাই কি নিশ্চিত ছিল না? এই প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল। যেমন যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ২৮৫ নম্বর পার্টের ভোটার রবি ভাণ্ডারি। তাঁর নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না। তিনি আনম্যাপড হিসাবে চিহ্নিত হন। শুনানিতে বার্থ সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট, আধার ও প্যান কার্ডের কপি দিয়েছিলেন। মায়ের পরিচয়পত্র হিসাবে জমা দিয়েছিলেন ডোমিসাইল সার্টিফিকেটও। কিন্তু কোনো অজ্ঞাত কারণে তাঁর আবেদন ফেরত পাঠিয়েছেন মাইক্রো অবজার্ভার। তাঁর মতো আরও বহু ভোটারের ‘হয়রানির খতিয়ান’ এসেছে ‘বর্তমান’-এর হাতে। ওই পার্টের বিএলও প্রশান্ত চৌধুরী বলেন, ‘ভোটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করছেন মাইক্রো অবজার্ভার-সহ দায়িত্বে থাকা বাকিরা।’
  • Link to this news (বর্তমান)