কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন ফুরচ্ছে, উচ্চশিক্ষা হতে চলেছে এআই নির্ভর! মত প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যালের
বর্তমান | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে কি? তেমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেল ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের (আইসিসি) সপ্তম গ্লোবাল এডুকেশন ফোরামে। শুক্রবার পার্কস্ট্রিটের একটি অভিজাত হোটেলে এই ফোরামে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তা বা এআই নির্ভর পঠনপাঠনের রুটম্যাপ। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।
সঞ্জীববাবু বলেন, লেকচার ভিত্তিক পঠনপাঠন একেবারেই সেকেলে হয়ে গিয়েছে। এআই যুগে পড়ুয়াদের ক্যাম্পাসে যাওয়ার প্রয়োজনই পড়ে না। তাঁরা বাড়িতে বসে অধ্যাপকদের বক্তব্য শুনতে পারেন অনায়াসেই। তাঁর আরো যুক্তি, বিশ্বসেরা অধ্যাপকদের লেকচার পড়ুয়ারা এখন অনলাইনেই শুনতে পান। কিন্তু ল্যাব ভিত্তিক পঠনপাঠন, অস্ত্রোপচার প্রভৃতি শিক্ষার জন্য ক্লাসরুম জরুরি। তিনি বলেন, একহাজার শিক্ষার্থীর জন্য দু-হাজার একরের ক্যাম্পাসের কোনো প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি সঞ্জীববাবুর যুক্তি, পড়াশোনার সঙ্গে কাজকর্মও করতে পারেন পড়ুয়ারা। পঠনপাঠনকালে বাবা-মায়ের টাকা কেন খরচ করবেন তাঁরা? জাতীয় শিক্ষানীতি এই সংস্কৃতিই তুলে ধরবে বলে তিনি আশাবাদী। সঞ্জীব সান্যাল উদাহরণ দিয়ে বলেন, এখন তো সামাজিক মাধ্যমে পডকাস্ট হচ্ছে। এটা কেউ শেখাচ্ছে না। তবু সকলে তা চমত্কার করছেন!
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, উচ্চশিক্ষায় বড়ো ধরনের পরিবর্তন আনতে হলে জাতীয় শিক্ষানীতির উপর ভিত্তি করেই তা হবে। আগে আর্টস, সায়েন্স, কমার্স থেকে পড়ুয়ারা স্ট্রিম বদলাতে পারতেন না। এবার স্ট্রিম বদলেরও সুযোগ খুলে যাবে। অনেক বেশি জোর দেওয়া হবে গবেষণার উপর। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ শুধু স্লোগান নয়, আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার।
আরো ছিলেন আইসিসির ডিজি রাজীব সিং, শিল্পপতি মদনমোহন মহাঙ্কা, আইসিসির ন্যাশনাল এক্সপার্ট কমিটির চেয়ারম্যান সত্যম রায়চৌধুরী, ফ্রান্স দূতাবাসের ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড এডুকেশন অ্যাটাশে জুলিয়া মার্টিন, ইউজিসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান ভি এন রাজশেখরন পিল্লাই প্রমুখ।