বুড়ুল-কলকাতা বাস আরও বাড়ানোর দাবি, হাওড়ার সঙ্গে লঞ্চও বৃদ্ধির প্রস্তাব
বর্তমান | ০১ মার্চ ২০২৬
সংবাদদাতা, বজবজ: হাওড়ার গড়চুমুক আটান্ন গেট থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বুড়ুলের হরিবাসর জেটিঘাট হয়ে ধর্মতলা এবং সল্টলেকের করুণাময়ী পর্যন্ত রুটে আগের তুলনায় ভিড় বেড়েছে। কারণ হাওড়ার গড়চুমুক দিয়ে জলপথে বুড়ুলে এসে, সেখান থেকে বাসে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলা যাওয়া-আসা খুব সহজ। তাই বুড়ুল থেকে কলকাতা রুটে আরও বাস বৃদ্ধি করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি জলপথে লঞ্চ-এর সময় বাড়ানোরও দাবি তুলেছেন যাত্রীরা।
আগে বুড়ুলের হরিবাসর থেকে নদীর অপর পাড় গড়চুমুকে ভুটভুটি করে যাতায়াত চলত। কোনো পাকা জেটি ছিল না। হরিবাসর বাস স্ট্যান্ড থেকে ধর্মতলা যাওয়ার বাস ছিল একটা। তারও সময়ের ঠিক ছিল না। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে বিষয়টি তোলার পর ঠিক হয়, হরিবাসরে কংক্রিটের জেটি তৈরি করা হবে। চালু হবে লঞ্চ পরিষেবা। সেই মতো পরিবহণ দপ্তর থেকে জেটিঘাট তৈরি হয়েছে। চালু হয়েছে লঞ্চ। বাসের সংখ্যাও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন সকাল থেকে মোট সাতটি বাস বুড়ুল থেকে ছাড়ে। এর মধ্যে সল্টলেকের করুণাময়ী পর্যন্ত যায় দু’টি। বাকি পাঁচটি ধর্মতলার দিকে যায়। বিকেলেও সাতটি ফেরে এই পথে।
কিন্তু সমস্যা হল, ধর্মতলা এবং সল্টলেকের দিক থেকে সকাল ও দুপুরে বুড়ুলের দিকে আসতে হলে কোনও বাস নেই। যদিও অনেকে দাবি জানানোর পর সকালের দিকে একটি বাস ধর্মতলা থেকে বুড়ুলের দিকে আসে। তারপর আর বাস নেই। ফলে সমস্যা পুরো মেটেনি।
পাশাপাশি জলপথে লঞ্চে এখন এক ঘণ্টা ছাড়া পরিষেবা মেলে। সেই সময় আরও কমানোর দাবি উঠেছে। শুধু তাই নয়, রাতের দিকে গড়চুমুক যাওয়ার শেষ লঞ্চের সময় সন্ধ্যা সাতটা থেকে বাড়িয়ে ৯টা পর্যন্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে। কারণ, বহু মানুষ কলকাতা থেকে এই পথে ফেরেন। কিন্তু একটু দেরি হলে শেষ লঞ্চ ধরতে পারেন না। তখন রাত্রিবাস করা নিয়ে সমস্যায় পড়েন।
বুড়ুলের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা স্বপন হাতি বলেন, বিষয়গুলি নিয়ে ভাবছেন সাংসদ। হরিবাসরের কাছে তিন একর সরকারি জমিতে বাস টার্মিনাস এবং অতিথি নিবাস তৈরির প্রস্তাব সাংসদকে দেওয়া হয়েছে। এটা হলে যাত্রীরা রাতে যাত্রীনিবাসেও থাকতে পারবেন। লঞ্চ-এর বিষয়টিও বিবেচনাধীন।