জেলায় জেলায় ক্ষোভ, মুখ্যসচিব, ৩ বারের বিধায়ক ‘অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায়!
বর্তমান | ০১ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআরের ‘রেজাল্ট আউট’ হওয়া মাত্রই নির্বাচন কমিশনের ‘তুঘলকি’ ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ শুরু হয়েছে জেলায় জেলায়। যাবতীয় বৈধ নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও, শনিবার প্রকাশিত প্রথম চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিস্তর ঘটনা সামনে এসেছে। আবার একইভাবে রাজ্যের মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে গত ১৫ বছরের বিধায়ক, জেলা সভাধিপতি, প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক, বিএলও সহ বহু ভোটারের নাম ‘লজিকাল ডিসক্রেপেন্সি’ থেকে উন্নীত হয়েছে ‘অ্যাডজুডিকেশন’ (বিচারাধীন) তালিকায়। এদিনের প্রকাশিত অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় নাম রয়েছে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি যে বিচারকদের দায়িত্ব দিয়েছেন, তাঁরাই বিচার করবেন অ্যাডজুডিকেশন তালিকা থেকে ঠিক কতজন শেষপর্যন্ত থাকবেন সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে। ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর ভোটারদের নাম সংবলিত সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হওয়ার প্রক্রিয়া চলবে বিধানসভা ভোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত। যার জেরে এখনও অনিশ্চয়তায় অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় থাকা ভোটাররা।
এই ‘বিচারাধীন’ তালিকায় নাম রয়েছে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবারই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, মুখ্যসচিবই হোন বা অন্য কেউ, উপযুক্ত নথি জমা দিয়ে যাবতীয় সন্দেহ দূর করতে হবে তাঁদেরই। বিচারধীন তালিকায় নাম রয়েছে আমডাঙা বিধানসভার বর্তমান বিধায়ক রফিকুর রহমানের। অ্যাডজুডিকেশনের কোপে পড়েছেন জয়নগরের প্রাক্তন সাংসদ তরুণ মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী মহুয়াদেবী। এই তালিকায় রয়েছেন রাজ্য রাজনীতির পরিচিত নাম বীরভূমের জেলা সভাধিপতি কাজল শেখ ও তাঁর মা। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক বাঁকুড়া বিধানসভার ১৩৫ নম্বর বুথের ভোটার মহম্মদ সেলিমের নাম ঢুকেছে অ্যাডজুডিকেশনে। তাঁর কথায়, যাবতীয় নথি জমা দিয়েছিলাম শুনানিতে। তবুও এই হয়রানি! যদি সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে নাম না থাকে, তবে আইনের দ্বারস্থ হবেন বলে আগাম হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিনি। আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তথা ময়নাগুড়ির বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডুর নামও তালিকায় বাদ পড়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা ভবানীপুর কেন্দ্রে ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৯৩ নম্বর পার্টের ভোটার কুসুম দুবে ও দীপালি বর্মণ এদিন তালিকায় নিজেদের নাম খুঁজতে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁদের কোনও ‘অস্তিত্ব’ই নেই। নাম বাদ গিয়েছে। কুসুম ও দীপালি দেবীর কথায়, সব কাগজপত্র ঠিক ছিল। কিন্তু কমিশন আমাদের ‘মৃত’ বলে ধরে নিয়ে নামই বাদ দিয়ে দিল! একইভাবে নৈহাটি পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ও তাঁর মা, পূর্ব বর্ধমানের হাটকালনা পঞ্চায়তের প্রধান শ্রাবন্তী মণ্ডলের মতো আরও বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটেছে সিঙ্গুর বিধানসভার ১২৪ ও ১২৯ নম্বর বুথে। কোনও শুনানিই হয়নি, অথচ বাদ গিয়েছে এই দুই বুথের বহু ভোটারের নাম। এদিন তা নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ভোটাররা।