কার্শিয়ং থেকে সমতল মাত্র ১৫ মিনিটে, কবে থেকে চালু রোপওয়ে?
আজ তক | ০১ মার্চ ২০২৬
Kurseong To Foothills Ropeway Service: কার্শিয়ংয়ে বহু প্রতীক্ষিত গিদ্দা পাহাড় থেকে রোহিণী লেক পর্যন্ত রোপওয়ে প্রকল্প ফের নড়াচড়া শুরু করল। ২০১৪ সালে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই রোপওয়ে তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা। কিন্তু এক যুগ পেরিয়ে গেলেও প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর ২০২৩ সালে বরাতপ্রাপ্ত কলকাতার সংস্থাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই ঝুলে ছিল পুরো পরিকল্পনা।
সম্প্রতি বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ে। পাহাড়ের স্বশাসিত সংস্থা গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নতুন করে অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে টেন্ডার ডেকেছে। সংস্থার মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শক্তিপ্রসাদ শর্মা জানিয়েছেন, নতুন কোনও সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এ বার আর বাধা আসবে না।
পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি মোর্চা-র মুখপাত্র রামকৃষ্ণ শর্মা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দাবির পর অবশেষে টেন্ডার ডাকা হয়েছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ। একই ভাবে হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যালও মনে করছেন, প্রকল্পটি চালু হলে পর্যটন শিল্প নতুন গতি পাবে।
রোপওয়ে চালু হলে মাত্র ১৫ মিনিটে গিদ্দা পাহাড় ভিউ পয়েন্ট থেকে রোহিণী লেকে পৌঁছনো সম্ভব হবে। এতে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা পাবেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কার্শিয়াংয়ের পর্যটন মানচিত্রে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
জিটিএ তৈরি হওয়ার পরে বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বেই তৎকালীন বোর্ড কার্সিয়াংয়ে রোপওয়ে তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। গিদ্দাপাহাড় থেকে রোহিণী লেক পর্যন্ত প্রায় ৫.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আকাশপথে এই রোপওয়ে তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ২০১৪ সালের ২৬ অগাস্ট ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। কলকাতার একটি সংস্থা এই প্রকল্পের দায়িত্ব পেয়েছিল। দেড় বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রাও ধরা হয়েছিল। কিন্তু ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। বরং গিদ্দাপাহাড় এবং রোহিণী লেকে প্রকল্পের যে কাজকর্ম হয়েছিল, সেই লোহার সরঞ্জাম, দামি মেশিনপত্র বেশিরভাগ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
জিটিএ-র তরফে জানানো হয়েছে, প্রকল্পের ৭০ শতাংশ কাজ হয়ে গিয়েছিল। তারপর অর্থবরাদ্দ না হওয়া এবং জিএসটি কার্যকর হওয়ায় প্রকল্পের খরচ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেইমতো আর্থিক সংস্থান করা সম্ভব হয়নি। যার ফলে বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাও ২০১৭ সাল থেকে কাজ বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকে ওভাবেই প্রকল্পের জিনিসপত্র পড়ে রয়েছে। এখানকার কর্মীদের একাংশের বেতনও দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে জিটিএ ফের উদ্যোগী হওয়ায় নতুন করে আশা জাগছে।