• স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষক নিয়োগের দাবি, সাঁতুড়িতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধে আদিবাসীরা, দুর্ভোগ
    বর্তমান | ০১ মার্চ ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: পুরুলিয়া জেলার সাঁওতালি মাধ্যমের প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিতে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পার্শ্বশিক্ষক হিসাবে নিয়োগ করতে হবে। বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পৃথক সাঁওতালি বোর্ড গঠন করতে হবে। এমনই নানা দাবিতে শনিবার জেলার কয়েকটি আদিবাসী সংগঠন পথ অবরোধ করে। সংগঠনের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলনে শামিল হয়। অবরোধে রাজ্যের শাসক দলের জনপ্রতিনিধিরাও শামিল হন। সংগঠনগুলির তরফে সাঁতুড়ি থানার বেনাগড়িয়া মোড়ে রঘুনাথপুর-বাঁকুড়া রাজ্য সড়ক অবরোধ করা হয়। সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ শুরু হয়। রাত পর্যন্ত তা চলে। অবরোধের জেরে ব্যাপক হয়রানির মধ্যে পড়ে মানুষ। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় ব্যাপক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। রাজ্য সড়কের উপর দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহনগুলিকে ঘুর পথে পাঠানো হয়।

    জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(উচ্চ মাধ্যমিক) মহুয়া বসাক বলেন, বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন তথা নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের জন্য যাবতীয় কাগজপত্র তৈরি করে রাজ্যের নবান্নে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয়গুলিতে কয়েকজন পার্শ্বশিক্ষক রয়েছেন। তবে স্বেচ্ছাসেবকদের পার্শ্বশিক্ষক হিসাবে নিয়োগ এবং স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি আমাদের হাতে নেই। তার জন্য কাগজপত্র রাজ্যের সংশ্লিষ্ট শিক্ষাদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে জেলায় সাঁওতালি মাধ্যমের ছ’টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যার মধ্যে সাঁতুড়ি ব্লকে তিনটি, কাশীপুরে দু’টি এবং বান্দোয়ান ব্লকে একটি বিদ্যালয় চলছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়গুলিকে প্রথমে জুনিয়র হাইস্কুল হিসাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুসারে তিনটি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়েগুলিকে উচ্চ মাধ্যমিকস্তরে উন্নীতকরণ করা হয়। অভিযোগ, তিনটি শ্রেণিকক্ষে ছ’টি শ্রেণির পঠনপাঠন চলে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানালেও ভবনের কোনো উন্নতি করা হয়নি। ফলে ফাঁকা মাঠে, গাছেরতলায় বিদ্যালয়ে চলে।
    পশ্চিমবঙ্গ সাঁওতাল শিক্ষক সংগঠনের পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক শত্রুঘ্ন মুর্মু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে। যতদিন না পর্যন্ত স্থায়ী শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে, ততদিন পার্শ্বশিক্ষক নিয়োগের জন্য জানানো হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি মিলেছিল। কিন্তু, কোনো কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে পথ অবরোধে শামিল হয়েছি।
    সাঁওতাল মিডিয়াম গার্জেন কমিটির জেলা সম্পাদক লখিন্দর হাঁসদা বলেন, স্বাধীনতার এতগুলি বছর পরেও আদিবাসীরা মাতৃ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। আমাদের ন্যায্য দাবিগুলি নিয়ে জেলা, রাজ্যস্তরে জানানো হয়েছে। কিন্তু, কেউ কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি।

    বিজেপি বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা বলেন, ন্যায় সঙ্গত দাবি। বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন আমাকেও একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছে। আমি বিধানসভায় সোচ্চার হয়েছি। কিন্তু, রাজ্য সরকারের এবিষয়ে কোনো সদিচ্ছা নেই। বিধায়ক তথা তৃণমূল জেলা সভাপতি রাজীব লোচন সোরেন বলেন, শিক্ষক নিয়োগের জন্য তোড়জোড় চলছে। বাকি পরিকাঠামো উন্নয়ন সহ যে দাবিগুলো রয়েছে সেই বিষয়ে সমস্ত কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)