• বাঙালিকে খোঁচাবেন না, হুংকার ফিরহাদের, ‘ব্রিটিশরা পারেনি, বিজেপিও পারবে না’
    বর্তমান | ০১ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মুর্শিদাবাদ ও বেলডাঙা: বিজেপিকে ব্রিটিশদের সঙ্গে তুলনা করে তুলোধনা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। মুর্শিদাবাদের মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, বাঙালিকে খোঁচাবেন না। ব্রিটিশরা পারেনি, আপনিও পারবেন না।

    কেন্দ্রের বিজেপি সরকার নানা ইস্যুতে বাংলা ও বাঙালিকে হেনস্তা করছে। উদাহরণ টেনে শনিবার বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, আমি রামকৃষ্ণদেব, স্বামীজির কাছে ধর্ম শিখব, নাকি গুজরাত থেকে এসে যারা বলছে মেরে দাও, ছুঁড়ে ফেলো, বাদ দাও তাদের কাছে? এই বাংলা প্রেমের স্থল। কিছু আছে, যারা ধর্ম নিয়ে ঘৃণা ছড়ায়। জাতের নামে বজ্জাতি চলছে। জাত নিয়ে রাজনীতি হয় না। রাজনীতি হয় উন্নয়নে। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা অন্যায় ও পাপ।
    এদিন মুর্শিদাবাদের লালবাগে এসে ফিরহাদ সাহেব প্রথমে হাজারদুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কাটরা মসজিদের প্রবেশদ্বারের শিলান্যাস করেন। তারপর ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে জিয়াগঞ্জ শহরের ভট্টপাড়ায় আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এরপর বেলডাঙায় এসে কুমারপুরে নদীর তীরে শ্মশানের বৈদ্যুতিক চুল্লি উদ্বোধন করেন ফিরহাদ সাহেব। তিনটি পৃথক অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ান। এদিনের অনুষ্ঠানগুলিতে হাজির ছিলেন জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া, সাংসদ আবু তাহের খান ও খলিলুর রহমান, মন্ত্রী আখরুজ্জামান, বিধায়ক অপূর্ব সরকার, রবিউল আলম চৌধুরী, হাসানুজ্জামান শেখ, মহম্মদ আলি প্রমুখ।

    ফিরহাদ সাহেব আরও বলেন, বাঙালির জন্য স্বাধীনতা এসেছে। আজ ভারত স্বাধীন রাষ্ট্র না হলে তো আপনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। আর যাঁদের জন্য স্বাধীনতা পেলেন, সেই বাঙালিদের অত্যাচার করা হচ্ছে বাংলা বলার জন্য। বাঙালিকে খোঁচাবেন না। ব্রিটিশরা পারেনি, আপনিও পারবেন না।

    বিজেপি সরকার ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই অভিযোগ তুলে ফিরহাদ সাহেব আরও বলেন, ভারতের কুতুবমিনার থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক স্টেশনের নাম পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আর আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ইতিহাসকে আরও বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, ইতিহাস অস্বীকার করা যাবে না। ইতিহাস চর্চা না করলে আমরা ভারতবর্ষকে জানতে পারব না। ইতিহাসে বাঙালি বিপ্লবীদের নাম মুছে দেওয়া হচ্ছে। আর আমরা এখানে অর্থাৎ, যে জায়গায় ইতিহাস তৈরি হয়েছে, বাংলা হিসেবে যে জেলার জন্য গর্ব করি, সেখানে আজ মুখ্যমন্ত্রী ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চেষ্টা করছেন। এভাবেই ইতিহাসকে রক্ষা করতে হবে।

    এদিন এসআইআরের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর লড়াইয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, যিনি তৃণমূলে ভোট দেবেন, শুধু তাঁর জন্য কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর নিয়ে লড়াই করেননি। তিনি লড়াই করেছেন এই বাংলার মানুষের জন্য। এই ভারতবর্ষ আমার। আমরা সবাই ভারতীয়। আমরা একসঙ্গে থাকি। এখানে একটি সম্প্রদায়ের নাম মুছে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার প্রথম সংগ্রাম এখানে শুরু হয়। আমরা তাই এখানে একসঙ্গে থাকি। নাম কাটার জন্য বিজেপি তার এজেন্ট কমিশনকে নামিয়ে দিয়েছে। কেউ ভয় পাবেন না। নাম বাদ গেলে কোথাও অশান্তি পাকিয়ে ওদের হাত শক্ত করবেন না। মনে রাখবেন, আপনার নাম বাদ দিলে অবশ্যই তা ভোটার তালিকায় তোলার ব্যবস্থা আছে।
  • Link to this news (বর্তমান)