• বিএলও, পুলিশ অফিসারও ‘বিচারাধীন’ ভোটার তালিকায়, কমিশনের ভূমিকায় প্রশ্ন
    বর্তমান | ০১ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বুথ লেভেল অফিসার(বিএলও) থেকে অবসরের দোরগোড়ায় পৌঁছনো পুলিশ অফিসারও নির্বাচনের কমিশনের খাতায় অ্যাডজুডিকেশন অর্থাৎ বিচারাধীন ভোটার। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের মহম্মদপুর পঞ্চায়েতের অধীন ৬৬নম্বর বুথের বিএলও জাকির হোসেন ২৭বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে নীলপুর প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তাঁর কাছে পাসপোর্ট আছে। নিজের বুথে বিএলও হিসেবে বাড়ি বাড়ি নোটিশ বিলি করেছেন। নিজেও নোটিশ পেয়েছেন। শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় ওই বুথ লেভেল অফিসার দেখেন তিনি নিজেই বিচারাধীন ভোটার।

    ভূপতিনগর থানার অধীন ইটাবেড়িয়া ফাঁড়ি ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম আর ২২মাস পর অবসর নেবেন। বাড়ি দাসপুর-১ ব্লকের বাসুদেবপুর পঞ্চায়েতের সুন্দরপুর গ্রামে। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি নোটিশ পান। ১৯৮৪সালে মাধ্যমিক পাশ করেন। নোটিশ পাওয়ার পর মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট জমা করেছেন। তারপর শনিবার লিস্ট প্রকাশ হতে আমিনুল সাহেব দেখেন, তাঁকে বিচারাধীন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আমিনুল সাহেবের কাকার ছেলে মনিরুল ইসলাম কেন্দ্রীয় সংস্থার চাকরি থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়েছেন। তিনিও বিচারাধীন ভোটার। আমিনুল সাহেবের নিজের ভাই সফিকুল ইসলাম কলকাতা পুলিশের এএআই। তিনিও বিচারাধীন ভোটার। নাম ভুল থাকার কারণে তাঁরা নোটিস পান। শুনানির সময় সব নথি জমা করার পরও বিচারাধীন কেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আমিনুল সাহেব।

    নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের কালীচরণপুর পঞ্চায়েতের ৭নম্বর জালপাই গ্রামের শেখ আবদুদ দাইয়ানের বয়স ৯০বছর। তিনি নন্দীগ্রামের কাঞ্চননগর দিদারুদ্দিন বিদ্যাভবনের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। আশ্চর্যজনকভাবে বিচারাধীন ভোটার তালিকায় ওই প্রবীণ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকেরও নাম রয়েছে। তাঁর ছেলে তৃণমূল কংগ্রেসের নন্দীগ্রাম-১ ব্লক কোর কমিটির সদস্য আলরাজি বলেন, বেছে বেছে সংখ্যালঘু ভোটারদের এভাবে অ্যাডজুডিকেশন লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা চাই, এর দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন হবে।

    নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ৬৬নম্বর বুথের বিএলও জাকির হোসেন বলেন, আমার বুথে মোট ৫১জন ভোটার বিচারাধীন। তারমধ্যে আমি নিজেও বিচারাধীন। ২৭বছর চাকরি করছি। ভোটকর্মী হিসেবে সাতবার নিতে গিয়েছি। নিজের কাছে পাসপোর্ট আছে। ২০০২সালের লিস্টে নাম আছে। বানান ভুলও ছিল না। তারপরও কেন শুনানিতে যেতে হয়েছিল সেটা স্পষ্ট নয়। আমার নিজের পাশাপাশি বয়স্ক বাবা এবং আমার স্ত্রীও বিচারাধীন ভোটার।

    নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের মহম্মদপুর পঞ্চায়েতের ৬৩নম্বর বুথের বিএলও সাবির মহম্মদ বলেন, ২০০২সালের লিস্টে নাম থাকা অনেক ভোটারের নামে অ্যাডজুডিকেশন শব্দ জোড়া রয়েছে। সংখ্যালঘু ভোটারদের ক্ষেত্রে এই ঘটনা বেশি ঘটেছে। আমার বুথে মোট ১৩৬জন ভোটার এরকম বিচারাধীন। তাঁরা বেশ চিন্তায় আছেন। আমরাও গোটা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত।
  • Link to this news (বর্তমান)