আসানসোলে শুরু ১৫ হাজার পথকুকুরের বন্ধ্যাত্বকরণ প্রক্রিয়া
বর্তমান | ০১ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোল শহরজুড়ে বাড়ছে পথকুকুরদের সংখ্যা। পাড়ার নিরাপত্তায় বড়ো ভূমিকা নেওয়া এই সারমেয়দের অতিরিক্ত সংখ্যাবৃদ্ধিতে অনেকক্ষেত্রে মানুষ-কুকুর সংঘাত বাড়ছে। পুরসভার সার্ভে অনুযায়ী, আসানসোল শহরে ১৫ হাজারের বেশি পথকুকুর আছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আসানসোল পুরসভা শনিবার থেকে পথকুকুরদের বন্ধ্যাত্বকরণ প্রক্রিয়া শুরু করল। কালীপাহাড়ীর কাছে পুরসভার বৃহৎ জায়গাজুড়ে ‘শেরু ও বন্ধুরা’ নামে কুকুরদের একটি শেল্টার হাউস গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানেই বন্ধ্যাত্বকরণ কর্মসূচি ও কুকুরদের র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ চলছে।
এদিন তার উদ্বোধনে উপস্থিত হয়েছিলেন শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক, মেয়র বিধান উপাধ্যায়, এডিডিএ চেয়ারম্যান কবি দত্ত ও পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পোন্নমবলম এস। সেখানে জেলাশাসক কুকুরদের পাশাপাশি রাস্তায় ঘুরতে থাকা গোরুদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা নিয়েও প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, গোরু চলাচলের জেরে রাস্তায়, বিশেষ করে জাতীয় সড়কে বহু বড়োসড়ো দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষ মারা যাচ্ছে।
এদিন মঞ্চ থেকে এনিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেন আসানসোলের মেয়র বিধান উপাধ্যায়। তিনি বলেন, মানুষকে সচেতন হতে হবে। কুকুরদের শুধু রাতে খাবার দিয়ে বাড়ির কাছে রাখা হচ্ছে, যাতে রাতপাহারা দেয়। আর সারাদিন সেই কুকুরকে বাইরে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র দুধ নেওয়ার সময় গোরুকে বাড়ি নিয়ে আসছি। তারপর রাস্তায় ছেড়ে দিচ্ছি। এজিনিস ঠিক নয়। এদিন মন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের নির্দেশে পুরসভা ভাল পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে জলাতঙ্ক রোগের আশঙ্কা কমবে। ভ্যাকসিনেশন দ্রুত হয়ে গেলে কুকুর কামড়ালেও মারণরোগ জলাতঙ্ক হবে না।
এদিন জেলাশাসক আরও একটি প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, গবাদি পশু, কুকুরদের জন্য ক্রিমেটোরিয়াম তৈরি করা প্রয়োজন। যাতে তাদের মৃতদেহ দাহ করে দেওয়া যায়। উত্তরে মেয়র বিধান উপাধ্যায় বলেন, আমরা সেজন্য একটি উদ্যোগ নিয়েছি। এডিডিএকে অনুরোধ করব, তারা যেন ইলেকট্রিক চুল্লির ব্যবস্থা করে। তাতে রাজি হন এডিডিএ চেয়ারম্যান কবি দত্ত। আসানসোল পুরসভার কমিশনার একাম জে সিং বলেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব পথকুকুরদের ভ্যাকসিনেশন করার চেষ্টা করব। ১০৬ ওয়ার্ডের এই বৃহৎ পুরসভায় আরও একাধিক জায়গায় বন্ধ্যাত্বকরণ কেন্দ্র করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।